০২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অ্যান্টি ড্যানড্রফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে খুশকি যাচ্ছে না, জেনে নিন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক,

খুশকি খুব সাধারণ একটি বিষয় হলেও একে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ খুশকি আদতে এক ধরনের ডিজঅর্ডার। আপনি পার্টিতে একটি কালো রঙের ড্রেস পরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কিন্তু খুশকির ভয়ে পরতে পারছেন না। কারণ খুশকি আপনার চরম শত্রু হয়ে দাঁড়িয়ে। অ্যান্টি-ড্যানড্রফ শ্যাম্পু মেখেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
এমনিতে সারা বছরই কম-বেশি আপনার খুশকির সমস্যা থাকে। তবে শীতে যেন তা আরও বাড়াবাড়ি আকার ধারণ করে। ঠান্ডার সময়ে স্নান, শ্যাম্পুতে খানিক ভাটা পড়ে। অনেকে মনে করেন খুশকি হওয়ার আসল কারণ সেটি।
অথচ অ্যান্টি-ড্যানড্রফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে খুশকি দূর হচ্ছে না। এ যেন কমার কোনো লক্ষণ নেই। কিন্তু আপনি চাইলে একটু সচেতন হলেই খুশকি দূর করা সম্ভব। অথচ আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন—কেন আপনার মাথায় খুশকি দূর হয় না। কারণ—সপ্তাহে ২-৩ দিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। আপনি তা করেন না। আবার শ্যাম্পু ২-৫ মিনিট স্ক্যাল্পে রাখা উচিত, সেটিও করেন না। কিংবা আপনার ভুল শ্যাম্পু নির্বাচনই আপনার খুশকিমুক্ত চুল হয় না। অথচ আপনি চাইলে খুশকি দূর করতে পারেন—কিটোকোনাজল, জিংক পাইরিথিয়ন বা সেলেনিয়াম সালফাইডযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করে।
জার্নাল অব ইনভেস্টিগেটিভ ডার্মাটোলোজি শিম্পোজিয়াম প্রোসিডিংসে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে—নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিশ্বজুড়ে যত সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন, তার প্রায় অর্ধেক মানুষ এ সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয়—প্রিটারিয়াসিস ক্যাপিটিস কিংবা সেবোররিক ডার্মাটিটিজ। আর বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন, খুশকির উৎস আসলে অপরিচ্ছন্নতা।
কিন্তু ইন্ডিয়া জার্নাল অব ডার্মাটোলোজির দেওয়া তথ্য বলছে—শুধু অপরিচ্ছন্নতা নয়, খুশকি হওয়ার নেপথ্য়ে রয়েছে স্ক্যাল্পের স্পর্শকাতরতা। এর সঙ্গে রয়েছে মানসিক চাপ, হরমোনের ভারসাম্য, আবহাওয়া এবং ডায়েটেরও প্রভাব। বাড়তে থাকা স্ট্রেস ও হরমোনের হেরফেরে মাথার ত্বকে সেবাম ক্ষরণ বেড়ে যায়। খুশকি হওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বয়ঃসন্ধির সময়ে এ সমস্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। কারণ এই সময়ে তৈল গ্রন্থিগুলো ভীষণভাবে সক্রিয় থাকে। শীতকালে আবার ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়। তার ওপর দূষণের প্রভাব তো আছেই।
মাথার শুষ্ক ত্বক আর্দ্র রাখতে অনেকেই হয়তো তেল মাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে লাভ কিছুই হয় না। উল্টো চুল ঝরার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। কারণ স্ক্যাল্পে প্রদাহজনিত সমস্যা বেড়ে যায় তেল মাখলে। ফাঙ্গল ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তবে কম ঘনত্বযুক্ত সিরাম ব্যবহার করলে উপকার মিলবে।

তবে একই সঙ্গে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শও দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। স্ক্যাল্প ভালো রাখতে গেলে এর সঙ্গে যোগ করতে হবে পুষ্টিকর, ভিটামিন এবং জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার। পানি খাওয়া ও বিশ্রামে যেন কোনো ঘাটতি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সৌদিতে দেওয়াল ধসে নোয়াখালী প্রবাসীর মৃত্যু

অ্যান্টি ড্যানড্রফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে খুশকি যাচ্ছে না, জেনে নিন

Update Time : ০১:২৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক,

খুশকি খুব সাধারণ একটি বিষয় হলেও একে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ খুশকি আদতে এক ধরনের ডিজঅর্ডার। আপনি পার্টিতে একটি কালো রঙের ড্রেস পরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কিন্তু খুশকির ভয়ে পরতে পারছেন না। কারণ খুশকি আপনার চরম শত্রু হয়ে দাঁড়িয়ে। অ্যান্টি-ড্যানড্রফ শ্যাম্পু মেখেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
এমনিতে সারা বছরই কম-বেশি আপনার খুশকির সমস্যা থাকে। তবে শীতে যেন তা আরও বাড়াবাড়ি আকার ধারণ করে। ঠান্ডার সময়ে স্নান, শ্যাম্পুতে খানিক ভাটা পড়ে। অনেকে মনে করেন খুশকি হওয়ার আসল কারণ সেটি।
অথচ অ্যান্টি-ড্যানড্রফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে খুশকি দূর হচ্ছে না। এ যেন কমার কোনো লক্ষণ নেই। কিন্তু আপনি চাইলে একটু সচেতন হলেই খুশকি দূর করা সম্ভব। অথচ আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন—কেন আপনার মাথায় খুশকি দূর হয় না। কারণ—সপ্তাহে ২-৩ দিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। আপনি তা করেন না। আবার শ্যাম্পু ২-৫ মিনিট স্ক্যাল্পে রাখা উচিত, সেটিও করেন না। কিংবা আপনার ভুল শ্যাম্পু নির্বাচনই আপনার খুশকিমুক্ত চুল হয় না। অথচ আপনি চাইলে খুশকি দূর করতে পারেন—কিটোকোনাজল, জিংক পাইরিথিয়ন বা সেলেনিয়াম সালফাইডযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করে।
জার্নাল অব ইনভেস্টিগেটিভ ডার্মাটোলোজি শিম্পোজিয়াম প্রোসিডিংসে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে—নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিশ্বজুড়ে যত সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন, তার প্রায় অর্ধেক মানুষ এ সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয়—প্রিটারিয়াসিস ক্যাপিটিস কিংবা সেবোররিক ডার্মাটিটিজ। আর বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন, খুশকির উৎস আসলে অপরিচ্ছন্নতা।
কিন্তু ইন্ডিয়া জার্নাল অব ডার্মাটোলোজির দেওয়া তথ্য বলছে—শুধু অপরিচ্ছন্নতা নয়, খুশকি হওয়ার নেপথ্য়ে রয়েছে স্ক্যাল্পের স্পর্শকাতরতা। এর সঙ্গে রয়েছে মানসিক চাপ, হরমোনের ভারসাম্য, আবহাওয়া এবং ডায়েটেরও প্রভাব। বাড়তে থাকা স্ট্রেস ও হরমোনের হেরফেরে মাথার ত্বকে সেবাম ক্ষরণ বেড়ে যায়। খুশকি হওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বয়ঃসন্ধির সময়ে এ সমস্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। কারণ এই সময়ে তৈল গ্রন্থিগুলো ভীষণভাবে সক্রিয় থাকে। শীতকালে আবার ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়। তার ওপর দূষণের প্রভাব তো আছেই।
মাথার শুষ্ক ত্বক আর্দ্র রাখতে অনেকেই হয়তো তেল মাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে লাভ কিছুই হয় না। উল্টো চুল ঝরার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। কারণ স্ক্যাল্পে প্রদাহজনিত সমস্যা বেড়ে যায় তেল মাখলে। ফাঙ্গল ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তবে কম ঘনত্বযুক্ত সিরাম ব্যবহার করলে উপকার মিলবে।

তবে একই সঙ্গে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শও দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। স্ক্যাল্প ভালো রাখতে গেলে এর সঙ্গে যোগ করতে হবে পুষ্টিকর, ভিটামিন এবং জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার। পানি খাওয়া ও বিশ্রামে যেন কোনো ঘাটতি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।