ক্রীড়া প্রতিবেদক
বেলা তখন দুইটা। হঠাৎ খবর চাউড় হলো জাতীয় স্টেডিয়ামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় স্টেডিয়াম চত্বরে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার শুরু হলো দ্রুতগতিতে। সেনাবাহিনী ও বিশেষ নিরাপত্তাকর্মীদের সংখ্যা ধীর ধীরে বাড়তে থাকল। চাউড় খবরটি সত্যি বলেই মনে হলো। কারণ ফি বছর স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলারদের সমন্বয়ে লাল ও সবুজ দলের প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অতীতে কখনোই প্রধানমন্ত্রী দূরঅস্ত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীদেরও দেখা যেত না। সেখানে এবার ইতিহাস সৃষ্টি হলো, স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত হন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বেলা ৩টা ৩৯ মিনিট। সাদা শার্ট ও নীল জিন্স পরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্টেডিয়ামের ভিআইপি এক নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করেন। সঙ্গে ছিলেন তার কন্যা জাইমা রহমান। ডাগআউটের সামনে এসেই তিনি সবুজ ও লাল দলের ফুটবলারদের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ ও সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বিরের সঙ্গে কিছু কথাও বিনিময় করেন। কোনো রকম অতিরিক্ত প্রটোকল ছাড়াই তিনি অ্যাথলেটিক্স টার্ফে উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিক দিয়ে হেঁটে ফের পশ্চিম দিকে ঘুরে আসেন দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দিয়ে। পরে তিনি ডাগআউটে বসে খেলা উপভোগ করেন। ম্যাচের মধ্যবিরতিতে অবশ্য ভিআইপি লাউঞ্জে আসরের নামাজও পড়েন প্রধানমন্ত্রী। কোনো দেশের সরকারপ্রধানের এভাবে ডাগআউটে বসে খেলা উপভোগ করার এটি এক বিরল ঘটনা হয়ে থাকল। খেলা শেষে দুই দলের ফুটবলারদের গলায় পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমাদের দলীয় ইশতেহারে নতুন ক্রীড়াবিদ খোঁজার পরিকল্পনা ছিল এবং ক্রীড়াকে পেশা হিসাবে যাতে নিতে পারেন ক্রীড়াবিদরা, সেই ব্যবস্থা করার ঘোষণা ছিল। সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা ‘নতুন কুঁড়ি’ নামে যে অনুষ্ঠানটি ছিল, এখানে আমরা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’কেও আমরা চালু করতে চাই। শুধু নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসই আমরা চালু করতে চাই না, আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা, প্রতিটি ইউনিয়নের স্কুলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে আমরা খেলার কম্পিটিশন শুরু করতে চাই।’ তারেক রহমান যোগ করেন, ‘বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের বহু মানুষ আছেন, যারা ক্রীড়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাদের সবার কাছে অনুরোধ থাকবে, আসুন আমরা বাংলাদেশের ক্রীড়া জগৎটিকে সুন্দরভাবে দল-মত নির্বিশেষে সুন্দরভাবে আমরা এ ক্রীড়া জগৎটিকে গড়ে তুলি। এ ক্রীড়া দেশের জন্য যেরকম সম্মান বয়ে আনতে পারে, এ ক্রীড়া আমাদের মধ্যে সুন্দরভাবে বন্ধুত্বের, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনও তৈরি করতে সক্ষম বলে আমি বিশ্বাস করি।’
Reporter Name 
























