আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসের কাছে এক বন্দুকধারী গুলি ছুড়েছেন। পরে সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন।দেশটির গণমাধ্যমের বরাতে সিক্রেট সার্ভিসের দেওয়া এক বিবৃতি অনুসারে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সিক্রেট সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে ১৭ নম্বর স্ট্রিট এবং পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি নিরাপত্তা চৌকির দিকে এগিয়ে যায় ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি তার ব্যাগে অস্ত্র লুকিয়ে এনেছিলেন। চেকপয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছেই তিনি ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে।হামলার সঙ্গে সঙ্গেই সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা পাল্টা গুলি চালান। এতে বন্দুকধারী গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী জর্জ ওয়াশিংটন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই পুরো হোয়াইট হাউজ এলাকায় জরুরি ‘লকডাউন’ জারি করা হয়। তবে সিক্রেট সার্ভিসের কোনো কর্মী এই ঘটনায় আহত হননি।
অবশ্য গোলাগুলির সময় এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হন। তবে তিনি হামলাকারীর গুলিতে নাকি পুলিশের পাল্টা গুলির সময় আহত হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ ঘটনায় তদন্ত করার কথা জানিয়েছে সিক্রেট সার্ভিস। ঘটনার সময় নর্থ লন এলাকায় থাকা সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে সরিয়ে নেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ‘গুলি চলছে, নিচু হোন’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তারা হোয়াইট হাউসের ভেতরের সাংবাদিকদের যে যার জায়গায় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেন।
ঘটনার পরপরই রাইফেল হাতে সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা নর্থ লন এলাকায় অবস্থান নেন। তারা হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুম আটকে দেন। পরে ইস্টার্ন টাইম (ইটি) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার পরপরই লকডাউন তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন হোয়াইট হাউসের বাসভবনেই অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস, ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ডিসি ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছেন এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। সেখানে তিনি বলেন, ‘হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণের কাছে গুলি চলার পর আমাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন। তারা সিক্রেট সার্ভিসকে সহায়তা করছেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা সাধারণ মানুষকে হালনাগাদ তথ্য জানাতে থাকব।’
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন এবং হাউস মেজোরিটি লিডার স্টিভ স্ক্যালিস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ট্রাম্পের নিরাপদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাত ৮টাতেও প্রেসিডেন্ট স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিলেন।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের নৈশভোজের সময় গুলির ঘটনা ঘটে। এক মাস পার না হতেই নতুন করে এই গুলির ঘটনা ঘটল।
Reporter Name 























