সবুজদিন রিপোর্ট।।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে আজ সোমবার সকাল থেকেই স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। তবে এ ব্যস্ততার মধ্যেই উত্তরাঞ্চলগামীসহ পাঁচটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
তবে রেল কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘অপারেশনাল ডিলে’ এবং রেললাইনের ওপর স্থানীয়দের খড় শুকানোর কারণে ট্রেনের গতি কমে যাওয়াকে দায়ী করলেও, ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করতে গিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই যাত্রীদের দীর্ঘ সারি স্টেশনের বাইরের পার্কিং এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা ও টিকিট যাচাইয়ের জন্য কয়েক ধাপ চেকিং পার হয়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হচ্ছে যাত্রীদের। কিন্তু ভেতরে ঢুকেই অনেককে অপেক্ষা করতে দেখা যায় বিলম্বিত ট্রেনের জন্য। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোর যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। ট্রেনের সময়সূচি বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে প্রায় ১৫টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ত্যাগ করলেও দুটি ট্রেন বিলম্বে ছেড়েছে এবং আরও দুটি ট্রেন নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্ল্যাটফর্ম ছাড়েনি।
এদিকে সকাল ৬টার ধূমকেতু এক্সপ্রেস আধা ঘণ্টা পিছিয়ে সকাল সাড়ে ৬টায় এবং সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের নীলসাগর এক্সপ্রেস দীর্ঘ বিলম্বের পর সকাল ৮টা ১০ মিনিটে স্টেশন ছেড়ে যায়। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটির সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট। তিতাস কমিউটার ট্রেন ৯ট ৪৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটির বিলম্বিত সিডিউল দেওয়া হয়েছে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে। এ ছাড়া সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সাড়ে ১০টা পার হয়ে গেলেও তখন পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মেই এসে পৌঁছায়নি।
রংপুরগামী এক যাত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই স্টেশনে এলেও ট্রেনের দেখা পাননি। এতে পরিবার নিয়ে প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন বলেন, এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নভাবেই চলছে। বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে। তবে রংপুর এক্সপ্রেস কিছুটা দেরিতে আছে। রেললাইনের ওপর অনেক জায়গায় মানুষ খড় শুকায়, এজন্য ট্রেনকে গতি কমিয়ে চলতে হয়। এতে কয়েকটি ট্রেন দেরিতে এসেছে। এ ছাড়া যেসব ট্রেন আধা ঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিট দেরিতে ছাড়ছে, সেগুলো মূলত অপারেশনাল ডিলে।
অন্যদিকে আজ কমলাপুর স্টেশন থেকে মোট ৬৭টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে ৪৪টি। ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীচাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
Reporter Name 



















