০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ তেহরানের পাল্টা আঘাত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৪২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন- ইরানে ‘কঠোর আঘাত’ হানা হবে। একই সময়ে ইরান বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করছে। যুদ্ধের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
গতকাল শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আর হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার কারণে ইরান এইঅবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাদের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে- প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে সেসব দেশে আর আক্রমণ চালানো হবে না। সাম্প্রতিক হামলার জন্য তিনি প্রতিবেশীদের কাছে দুঃখপ্রকাশও করেন।
ইরানের নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক সহায়তা কেন্দ্র লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের ২৫তম দফার অভিযানে হাইপারসনিক ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির পাঁচ গুণের বেশি গতিতে চলতে পারে, যার গতি ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার।
ইসরায়েলও জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর জেরে সারা রাত লাখ লাখ মানুষকে নিরাপত্তা বাংকারে আশ্রয় নিতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতেই ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেশবাসীকে জানানো হয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ধারণা করছিল হামলার প্রথম সপ্তাহেই ইরান থেকে ইসরায়েলে অন্তত ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হতে পারে। তবে এ পর্যন্ত ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদিতে হামলার চেষ্টা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওই হামলায় একটি মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ও রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার দেশটিকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২১টি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলায় বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানের তিনজন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বাহরাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৮টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে আসা ছয়টি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলা
উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘প্রিমা’ নামের একটি তেল ও রাসায়নিকবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছিল।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। যুদ্ধের কারণে এই পথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে।
তেহরান ও ইসফাহানে ইসরায়েলের বড় হামলা
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা তেহরান ও ইসফাহানের বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক আকারে’ নতুন দফা বিমান হামলা শুরু করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তেহরানের ব্যস্ততম মেহরাবাদ বিমানবন্দর এলাকায় আগুন ও ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুক্রবার রাতের বোমাবর্ষণ আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।
লেবাননেও হামলা, বাড়ছে হতাহত
লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের বেকা অঞ্চলের নবী চিত এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
ইসরায়েল বলছে, তারা হিজবুল্লাহর এলিট কমান্ডো ইউনিট রাদওয়ান ফোর্স–-এর ঘাঁটি, অস্ত্রাগার ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানে ব্যাপক বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে ৬ হাজার ৬৬৮টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে- ৫ হাজার ৫৩৫টি আবাসিক ভবন, ১ হাজার ৪১টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ১৪টি চিকিৎসা কেন্দ্র, ৬৫টি বিদ্যালয়, ১৩টি রেড ক্রিসেন্ট কেন্দ্র। হামলার সময় উদ্ধার কাজে নিয়োজিত কয়েকজন ত্রাণকর্মীও আহত হয়েছেন।
আকাশপথ আংশিক খুলছে কাতার
সংঘাত শুরুর এক সপ্তাহ পর কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ খুলে দিয়েছে। আপাতত শুধু উদ্ধার ও জরুরি পণ্যবাহী কার্গো ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কাতার দাবি করেছিল, তারা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আসা ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।
রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তার অভিযোগ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানের অবস্থান সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া। যদিও মস্কো বা তেহরান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
উত্তেজনায় পুরো অঞ্চল
বিশ্লেষকদের মতে, এক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত এখন কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য এতে জড়িয়ে পড়ছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা, তেলবাহী জাহাজে আঘাত এবং আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের সামরিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে সংঘাতটি সীমিত থাকবে নাকি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ তেহরানের পাল্টা আঘাত

Update Time : ০২:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন- ইরানে ‘কঠোর আঘাত’ হানা হবে। একই সময়ে ইরান বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করছে। যুদ্ধের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
গতকাল শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আর হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার কারণে ইরান এইঅবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাদের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে- প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে সেসব দেশে আর আক্রমণ চালানো হবে না। সাম্প্রতিক হামলার জন্য তিনি প্রতিবেশীদের কাছে দুঃখপ্রকাশও করেন।
ইরানের নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক সহায়তা কেন্দ্র লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের ২৫তম দফার অভিযানে হাইপারসনিক ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির পাঁচ গুণের বেশি গতিতে চলতে পারে, যার গতি ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার।
ইসরায়েলও জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর জেরে সারা রাত লাখ লাখ মানুষকে নিরাপত্তা বাংকারে আশ্রয় নিতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতেই ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেশবাসীকে জানানো হয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ধারণা করছিল হামলার প্রথম সপ্তাহেই ইরান থেকে ইসরায়েলে অন্তত ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হতে পারে। তবে এ পর্যন্ত ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদিতে হামলার চেষ্টা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওই হামলায় একটি মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ও রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার দেশটিকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২১টি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলায় বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানের তিনজন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বাহরাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৮টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে আসা ছয়টি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলা
উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘প্রিমা’ নামের একটি তেল ও রাসায়নিকবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছিল।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। যুদ্ধের কারণে এই পথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে।
তেহরান ও ইসফাহানে ইসরায়েলের বড় হামলা
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা তেহরান ও ইসফাহানের বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক আকারে’ নতুন দফা বিমান হামলা শুরু করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তেহরানের ব্যস্ততম মেহরাবাদ বিমানবন্দর এলাকায় আগুন ও ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুক্রবার রাতের বোমাবর্ষণ আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।
লেবাননেও হামলা, বাড়ছে হতাহত
লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের বেকা অঞ্চলের নবী চিত এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
ইসরায়েল বলছে, তারা হিজবুল্লাহর এলিট কমান্ডো ইউনিট রাদওয়ান ফোর্স–-এর ঘাঁটি, অস্ত্রাগার ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানে ব্যাপক বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে ৬ হাজার ৬৬৮টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে- ৫ হাজার ৫৩৫টি আবাসিক ভবন, ১ হাজার ৪১টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ১৪টি চিকিৎসা কেন্দ্র, ৬৫টি বিদ্যালয়, ১৩টি রেড ক্রিসেন্ট কেন্দ্র। হামলার সময় উদ্ধার কাজে নিয়োজিত কয়েকজন ত্রাণকর্মীও আহত হয়েছেন।
আকাশপথ আংশিক খুলছে কাতার
সংঘাত শুরুর এক সপ্তাহ পর কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ খুলে দিয়েছে। আপাতত শুধু উদ্ধার ও জরুরি পণ্যবাহী কার্গো ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কাতার দাবি করেছিল, তারা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আসা ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।
রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তার অভিযোগ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানের অবস্থান সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া। যদিও মস্কো বা তেহরান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
উত্তেজনায় পুরো অঞ্চল
বিশ্লেষকদের মতে, এক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত এখন কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য এতে জড়িয়ে পড়ছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা, তেলবাহী জাহাজে আঘাত এবং আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের সামরিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে সংঘাতটি সীমিত থাকবে নাকি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।