১১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস

যেভাবে অল্পের জন্য বেঁচে যান মোজতবা খামেনি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ৪১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুইটির যৌথ হামলায় প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে ওই ভয়াবহ হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর হাতে আসা একটি ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক মিনিট আগে ব্যক্তিগত কাজে ভবন থেকে বাইরে পা রাখায় প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি।
সোমবার প্রকাশিত টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ধাপের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল আলী খামেনির কম্পাউন্ড। এটি ছিল একই সঙ্গে তার আবাস ও কর্মস্থল।
অডিও রেকর্ডে তীব্র হামলার পরেও সেদিন কীভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন মোজতবা খামেনি, সেই রোমহর্ষক বর্ণনাও উঠে এসেছে দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কয়েক মিনিট আগে দৈবক্রমে ঘর থেকে বের হয়ে বাগানে হাঁটতে গিয়েছিলেন মোজতবা খামেনি।
এ নিয়ে দ্য টেলিগ্রাফ একটি অডিও ফাইল সংগ্রহ করেছে। সেখানে এই ঘটনার বর্ণনা আছে। অডিওতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি কথা বলেন। শ্রোতা ছিলেন, জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডাররা।
হামলার সময় সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে ঠিক কি ঘটেছিল, সেটার বিস্তারিত বর্ণনা এই বক্তব্য থেকে জানা যায়। এতে বলা হয়, বাবার মতো সন্তান মোজতবাও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, তারা ওই ফাঁস হওয়া অডিও ফাইলটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করেছে।
অডিওতে মাজাহের হোসেইনি জানান, হামলা শুরুর ঠিক আগে ‘কিছু একটা করার জন্য’ কক্ষ থেকে বের হন মোজতবা খামেনি। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ইরানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে ইসরায়েলের ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তার বাড়িতে আঘাত হানে।

হোসেইনি জানান, মোজতবা খামেনি সরাসরি হামলার শিকার না হলেও পায়ে আঘাত পান। হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে মোজতবার স্ত্রী ও সন্তান নিহত হয়। তার শ্যালকের মাথা দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায়। খামেনির সামরিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ সিরাজি এই হামলায় ‘ছিন্নভিন্ন হয়ে যান’। পরবর্তীতে তার মরদেহ শনাক্ত করার জন্য শুধু কয়েক কেজি মাংস অবশিষ্ট ছিল বলে জানান হোসেইনি।
নাম না প্রকাশের শর্তে ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, সামরিক কমান্ডারদের কাছে মোজতবা খামেনির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। তিনি আদৌ সুস্থ আছেন কি না, সে প্রশ্নের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শুনেছেন মোজতবা খামেনি আর বেঁচে নেই। জীবিত থাকলেও তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় কোমায় আছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস

যেভাবে অল্পের জন্য বেঁচে যান মোজতবা খামেনি

Update Time : ০৩:১৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুইটির যৌথ হামলায় প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে ওই ভয়াবহ হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর হাতে আসা একটি ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক মিনিট আগে ব্যক্তিগত কাজে ভবন থেকে বাইরে পা রাখায় প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি।
সোমবার প্রকাশিত টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ধাপের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল আলী খামেনির কম্পাউন্ড। এটি ছিল একই সঙ্গে তার আবাস ও কর্মস্থল।
অডিও রেকর্ডে তীব্র হামলার পরেও সেদিন কীভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন মোজতবা খামেনি, সেই রোমহর্ষক বর্ণনাও উঠে এসেছে দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কয়েক মিনিট আগে দৈবক্রমে ঘর থেকে বের হয়ে বাগানে হাঁটতে গিয়েছিলেন মোজতবা খামেনি।
এ নিয়ে দ্য টেলিগ্রাফ একটি অডিও ফাইল সংগ্রহ করেছে। সেখানে এই ঘটনার বর্ণনা আছে। অডিওতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি কথা বলেন। শ্রোতা ছিলেন, জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডাররা।
হামলার সময় সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে ঠিক কি ঘটেছিল, সেটার বিস্তারিত বর্ণনা এই বক্তব্য থেকে জানা যায়। এতে বলা হয়, বাবার মতো সন্তান মোজতবাও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, তারা ওই ফাঁস হওয়া অডিও ফাইলটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করেছে।
অডিওতে মাজাহের হোসেইনি জানান, হামলা শুরুর ঠিক আগে ‘কিছু একটা করার জন্য’ কক্ষ থেকে বের হন মোজতবা খামেনি। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ইরানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে ইসরায়েলের ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তার বাড়িতে আঘাত হানে।

হোসেইনি জানান, মোজতবা খামেনি সরাসরি হামলার শিকার না হলেও পায়ে আঘাত পান। হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে মোজতবার স্ত্রী ও সন্তান নিহত হয়। তার শ্যালকের মাথা দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায়। খামেনির সামরিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ সিরাজি এই হামলায় ‘ছিন্নভিন্ন হয়ে যান’। পরবর্তীতে তার মরদেহ শনাক্ত করার জন্য শুধু কয়েক কেজি মাংস অবশিষ্ট ছিল বলে জানান হোসেইনি।
নাম না প্রকাশের শর্তে ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, সামরিক কমান্ডারদের কাছে মোজতবা খামেনির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। তিনি আদৌ সুস্থ আছেন কি না, সে প্রশ্নের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শুনেছেন মোজতবা খামেনি আর বেঁচে নেই। জীবিত থাকলেও তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় কোমায় আছেন।