১১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গরমে বাড়ছে অ্যাসিডিটি? প্রাকৃতিক যেসব উপায়ে মিলবে স্বস্তি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০ Time View

সবুজদিন ডেস্ক।।

গ্রীষ্মকাল শুধু তাপই নিয়ে আসে না, এটি নিঃশব্দে হজম প্রক্রিয়াকেও ব্যাহত করে। অনেকেই এই সময়ে হঠাৎ করে অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা খাবারের পর বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। বিষয়টি সাময়িক মনে হলেও অবহেলা করলে তা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

ভারতের ন্যাচারোপ্যাথি ও যোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নরেন্দ্র কে শেঠি বলেন, গরমের সময় ডিহাইড্রেশন, অতিরিক্ত তাপ ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে হজম প্রক্রিয়া সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

গরমে কেন বাড়ে হজমের সমস্যা

গরম আবহাওয়ায় হজমের গতি কমে যায়। শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে পাকস্থলীর হজম রস ঘন হয়ে যায়, ফলে খাবার ভাঙতে সমস্যা হয়। এছাড়া এ সময়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়, কারণ উষ্ণ পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে। বাইরে বেশি খাওয়াদাওয়া করলেও পেটের সমস্যার আশঙ্কা বাড়ে।

ডা. শেঠির মতে, ঘাম বেশি হওয়ার ফলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা বমি ভাব, ক্লান্তি ও পেট ফাঁপার মতো উপসর্গ তৈরি করতে পারে।

পানি পানেই শুরু সমাধান

অ্যাসিডিটি কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। তবে শুধু পানি নয়, ডাবের পানি ও বাটারমিল্ক (লাচ্ছি) এই সময় বিশেষ উপকারী।

খাবারে আনুন সচেতনতা

সহজপাচ্য ও ঠান্ডা প্রকৃতির খাবার অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে। শসা, পুদিনা, তরমুজ, বাঙ্গি, চালকুমড়া এবং মুগ ডাল-ভাতের মতো খাবার উপকারী। অন্যদিকে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত ঝাল বা অ্যাসিডিক খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো
এছাড়া প্রাকৃতিক উপাদান ‘গন্ড কাতিরা’ও উপকারী। পানিতে ভিজিয়ে খেলে এটি জেলির মতো হয়ে শরীর ঠান্ডা রাখে এবং হজমতন্ত্রকে প্রশান্ত করে।

রুটিনেও চাই নজর

শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন এবং কীভাবে খাচ্ছেন তাও গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত খাবারের সময় বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে। খাবারের পর কয়েক মিনিট বজ্রাসনে বসলে হজমে সহায়তা করে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানোও জরুরি, কারণ পেট ও মস্তিষ্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

সহজ কিছু ঘরোয়া উপায়

কিছু সহজ অভ্যাস অ্যাসিডিটি কমাতে কার্যকর হতে পারে। যেমন—জিরা পানি পান, খাবারের পর মৌরি চিবানো, খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়া। এছাড়া খালি পেটে চা বা কফি পান কমিয়ে আনা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালের অ্যাসিডিটি শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করে না; বরং তাপমাত্রা, পানি গ্রহণ ও দৈনন্দিন রুটিন—সবকিছুর সমন্বয়ে এর প্রভাব তৈরি হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গরমে বাড়ছে অ্যাসিডিটি? প্রাকৃতিক যেসব উপায়ে মিলবে স্বস্তি

Update Time : ০৪:০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন ডেস্ক।।

গ্রীষ্মকাল শুধু তাপই নিয়ে আসে না, এটি নিঃশব্দে হজম প্রক্রিয়াকেও ব্যাহত করে। অনেকেই এই সময়ে হঠাৎ করে অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা খাবারের পর বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। বিষয়টি সাময়িক মনে হলেও অবহেলা করলে তা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

ভারতের ন্যাচারোপ্যাথি ও যোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নরেন্দ্র কে শেঠি বলেন, গরমের সময় ডিহাইড্রেশন, অতিরিক্ত তাপ ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে হজম প্রক্রিয়া সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

গরমে কেন বাড়ে হজমের সমস্যা

গরম আবহাওয়ায় হজমের গতি কমে যায়। শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে পাকস্থলীর হজম রস ঘন হয়ে যায়, ফলে খাবার ভাঙতে সমস্যা হয়। এছাড়া এ সময়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়, কারণ উষ্ণ পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে। বাইরে বেশি খাওয়াদাওয়া করলেও পেটের সমস্যার আশঙ্কা বাড়ে।

ডা. শেঠির মতে, ঘাম বেশি হওয়ার ফলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা বমি ভাব, ক্লান্তি ও পেট ফাঁপার মতো উপসর্গ তৈরি করতে পারে।

পানি পানেই শুরু সমাধান

অ্যাসিডিটি কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। তবে শুধু পানি নয়, ডাবের পানি ও বাটারমিল্ক (লাচ্ছি) এই সময় বিশেষ উপকারী।

খাবারে আনুন সচেতনতা

সহজপাচ্য ও ঠান্ডা প্রকৃতির খাবার অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে। শসা, পুদিনা, তরমুজ, বাঙ্গি, চালকুমড়া এবং মুগ ডাল-ভাতের মতো খাবার উপকারী। অন্যদিকে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত ঝাল বা অ্যাসিডিক খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো
এছাড়া প্রাকৃতিক উপাদান ‘গন্ড কাতিরা’ও উপকারী। পানিতে ভিজিয়ে খেলে এটি জেলির মতো হয়ে শরীর ঠান্ডা রাখে এবং হজমতন্ত্রকে প্রশান্ত করে।

রুটিনেও চাই নজর

শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন এবং কীভাবে খাচ্ছেন তাও গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত খাবারের সময় বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে। খাবারের পর কয়েক মিনিট বজ্রাসনে বসলে হজমে সহায়তা করে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানোও জরুরি, কারণ পেট ও মস্তিষ্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

সহজ কিছু ঘরোয়া উপায়

কিছু সহজ অভ্যাস অ্যাসিডিটি কমাতে কার্যকর হতে পারে। যেমন—জিরা পানি পান, খাবারের পর মৌরি চিবানো, খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়া। এছাড়া খালি পেটে চা বা কফি পান কমিয়ে আনা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালের অ্যাসিডিটি শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করে না; বরং তাপমাত্রা, পানি গ্রহণ ও দৈনন্দিন রুটিন—সবকিছুর সমন্বয়ে এর প্রভাব তৈরি হয়।