০৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর আজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ভয়াল রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর আজ। আজকের এই দিনেই ঘটে যায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। প্রাণ ঝড়ে হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিকের।

এত বছর পরেও অবহেলায় হাজারো প্রাণ হত্যার বিচার এখনও অনিশ্চিত। সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলেও সাক্ষীই হাজির করতে পারছে না পুলিশ। এদিকে নিহতদের পরিবার তাদের স্বজন ও স্বপ্ন হত্যার বিচার চান।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। সকাল বেলা, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়ে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। চার্জশিট অনুযায়ী দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১১৩৬ জন। গুরুতর আহত হয় কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিক। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উঠে বড় প্রশ্ন। নচে চড়ে বসে গোটা বিশ্ব। যদিও সেই ঘটনার কেটে গেছে ১৩ টি বছর। সেদিন সকালের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাজা আহতদের কাছে।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হাজারো প্রাণ হত্যায় অবহেলার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ঢাকার জেলা জজ আদালতে মামলাটির বিচার শুরু হয় ২০১৬ তে। যদিও এরপর একের পর এক আসামি, বিচার স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে যাওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে থাকে ২০২২ পর্যন্ত। পরে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে আবারও শুরু হয় মামলার কার্যক্রম।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করতে বারবার আদেশ দিলেও সাক্ষী হাজির করতে পারছে না পুলিশ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, ৬ মাসের মধ্যে মামলা শেষ করতে নির্দেশ দিলে তাতেও কর্ণপাত করেননি সাক্ষী, পুলিশ, বিচারক কেউই।

এদিকে মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সোহেল রানার আইনজীবী এখনও মনে করেন রানা নির্দোষ।

তিনি জানান, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে রানাকে।

এমন নৃশংস ঘটনার বিচার নিয়েও এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ৩০ এপ্রিল এ মামলায় ফের সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। যদি রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সাক্ষী হাজির করতে পারে তবেই মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাবে।

এদিকে সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আহত শ্রমিক, নিহত শ্রমিকদের স্বজন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার সকালে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারা। পাশাপাশি শ্রমিক হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায় বিভিন্ন সংগঠন।

সকালে দিবসটি উপলক্ষ্যে রানা প্লাজার সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শ্রমিক সংগঠনগুলো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর আজ

Update Time : ১২:৫১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ভয়াল রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর আজ। আজকের এই দিনেই ঘটে যায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। প্রাণ ঝড়ে হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিকের।

এত বছর পরেও অবহেলায় হাজারো প্রাণ হত্যার বিচার এখনও অনিশ্চিত। সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলেও সাক্ষীই হাজির করতে পারছে না পুলিশ। এদিকে নিহতদের পরিবার তাদের স্বজন ও স্বপ্ন হত্যার বিচার চান।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। সকাল বেলা, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়ে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। চার্জশিট অনুযায়ী দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১১৩৬ জন। গুরুতর আহত হয় কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিক। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উঠে বড় প্রশ্ন। নচে চড়ে বসে গোটা বিশ্ব। যদিও সেই ঘটনার কেটে গেছে ১৩ টি বছর। সেদিন সকালের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাজা আহতদের কাছে।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হাজারো প্রাণ হত্যায় অবহেলার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ঢাকার জেলা জজ আদালতে মামলাটির বিচার শুরু হয় ২০১৬ তে। যদিও এরপর একের পর এক আসামি, বিচার স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে যাওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে থাকে ২০২২ পর্যন্ত। পরে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে আবারও শুরু হয় মামলার কার্যক্রম।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করতে বারবার আদেশ দিলেও সাক্ষী হাজির করতে পারছে না পুলিশ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, ৬ মাসের মধ্যে মামলা শেষ করতে নির্দেশ দিলে তাতেও কর্ণপাত করেননি সাক্ষী, পুলিশ, বিচারক কেউই।

এদিকে মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সোহেল রানার আইনজীবী এখনও মনে করেন রানা নির্দোষ।

তিনি জানান, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে রানাকে।

এমন নৃশংস ঘটনার বিচার নিয়েও এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ৩০ এপ্রিল এ মামলায় ফের সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। যদি রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সাক্ষী হাজির করতে পারে তবেই মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাবে।

এদিকে সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আহত শ্রমিক, নিহত শ্রমিকদের স্বজন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার সকালে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারা। পাশাপাশি শ্রমিক হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায় বিভিন্ন সংগঠন।

সকালে দিবসটি উপলক্ষ্যে রানা প্লাজার সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শ্রমিক সংগঠনগুলো।