সবুজদিন ডেস্ক।।
রংপুরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে হাঁড়িভাঙা আম। স্বাদ ও গন্ধে অনন্য এবং আঁশবিহীন সুস্বাদু প্রজাতির এই আমের সুনাম দেশে গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে ছড়িয়েছে।
হাঁড়িভাঙা আম এক বছর কম ফলন দেয়। পরের বছর আবার ভাল ফলন দেয়। যে বছর কম ফলন হয়, সেই বছরকে বলা হয় অফ ইয়ার। যে বছর ভাল ফলন দেয়, সেই বছরকে কৃষিবিদদের ভাষায় বলা হয়ে থাকে অন ইয়ার।
এবার হাঁড়িভাঙা আমের অন ইয়ার। এবার গাছে প্রচুর মুকুল ধরেছে, যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি। ধীরে ধীরে আম পূর্ণতা পেতে শুরু করেছে। তবে কয়েকদিন ধরে রংপুর অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টিতে হাড়িভাঙ্গা আম চাষীদের স্বপ্ন হোচট হতে শুরু করেছে। অনেক স্থানে আমের গুটি ঝরে পড়েছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, ক্ষতি খুবই কম। তবে বিষয়টি পর্যব্ক্ষেণ করে আমচাষীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবার ডিসেম্বরের প্রথম দিক থেকেই গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করে। বর্তমানের আমের বয়স প্রায় চারমাস। প্রতিবছর আম জুনের মাঝামাঝি সময়ে গাছ থেকে পারা হয়ে থাকে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এবার ঠিক সময়ে গাছ থেকে আম পারা শুরু হবে।
রংপুর জেলায় এবার আম আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ২০০০ হেক্টরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাড়িভাঙ্গা প্রায় ১০-১২ মেট্রিকটন ফলন হয়। যার মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি।
রংপুরে হাড়িভাঙ্গা ছাড়াও ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বীনি, সাদা নেংড়া, কালা নেংড়া, কলিকাতা নেংড়া, মিশ্রী ভোগ, গোপাল ভোগ, আম্রপলি, সাদা রচি,চোষা, আঁটি জাতীয় আমের ফলন হয়। তবে হাড়িভাঙ্গা আমের ফলন বেশি হয়। এবার হাড়িভাঙ্গা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পনের হাজার মেট্রিক টনের ওপর।
বদরগঞ্জের শ্যামপুরের েএবার শামছুজ্জামান, শফিকুল ইসলাম, বেলাল হোসেন, মিঠাপুকুরে শাহিনুর ইসলাম বকুলসহ অনেকে আমের চাষ করেছেন। তারা জানান, ঝড়ো হাওয়ার কারণে আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। সামনে আরও ঝড় হলে লোকসানের আশা করছেন তারা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার আমের অন ইয়ার। প্রচুর আম ধরেছে। আমের খুব একটা ক্ষতি হবে না। কৃষি বিভাগ থেকে চাষীদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।
Reporter Name 
























