১২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে নতুন আড়াই হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • ৩৮ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের স্থল অভিযান বা বিশেষ প্রয়োজনে সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনার একটি শক্তিশালী দল মোতায়েন করা হচ্ছে।
জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা ইতিমধ্যে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এই সেনাদলটির সঙ্গে রয়েছে অত্যাধুনিক উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’, যা থেকে সেনারা সরাসরি উপকূলে বা রণক্ষেত্রে অবতরণ করতে সক্ষম। মূলত এই মেরিন সেনারাই হতে যাচ্ছেন এই যুদ্ধে সরাসরি মোতায়েন হওয়া প্রথম মার্কিন স্থলসেনা।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসএস ত্রিপোলির মতো উভচর যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি যুদ্ধের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এই জাহাজটি কেবল যুদ্ধবিমান বহন করে না, বরং এটি সমুদ্র থেকে সরাসরি স্থলে সেনা নামানোর জন্য বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন।
ধারণা করা হচ্ছে, কোনো জরুরি সংকট মোকাবিলা কিংবা ইরানের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে এই বিশেষ প্রশিক্ষিত মেরিন সেনাদের ব্যবহার করা হতে পারে। এখন পর্যন্ত আকাশপথে হামলা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হলেও এই স্থলবাহিনী মোতায়েন নির্দেশ করছে যে পেন্টাগন যুদ্ধের একটি নতুন ধাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ এটিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে দেশটি বর্তমানে ইরানে তাদের সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করছে। আড়াই হাজার মেরিন সেনার এই যাত্রাকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির একটি লক্ষণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে খুব দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করার বা শান্তি আলোচনার কোনো সুনির্দিষ্ট সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না; বরং একের পর এক শক্তিশালী সামরিক ইউনিট মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই মোতায়েন কেবল ইরানের জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির সঙ্গে এই নতুন মেরিন ইউনিট যুক্ত হলে আকাশ, জল ও স্থল—তিন পথেই ইরান বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ সেনাদলের এই অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টিকে কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছে।
ওকিনাওয়া থেকে রওনা হওয়া এই সেনাদলটি কতদিনের মধ্যে রণক্ষেত্রে পৌঁছাবে এবং তাদের সুনির্দিষ্ট মিশন কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই ‘উভচর’ যুদ্ধজাহাজ ও স্থলবাহিনীর আগমন সংঘাতের ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে নতুন আড়াই হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ০২:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের স্থল অভিযান বা বিশেষ প্রয়োজনে সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনার একটি শক্তিশালী দল মোতায়েন করা হচ্ছে।
জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা ইতিমধ্যে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এই সেনাদলটির সঙ্গে রয়েছে অত্যাধুনিক উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’, যা থেকে সেনারা সরাসরি উপকূলে বা রণক্ষেত্রে অবতরণ করতে সক্ষম। মূলত এই মেরিন সেনারাই হতে যাচ্ছেন এই যুদ্ধে সরাসরি মোতায়েন হওয়া প্রথম মার্কিন স্থলসেনা।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসএস ত্রিপোলির মতো উভচর যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি যুদ্ধের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এই জাহাজটি কেবল যুদ্ধবিমান বহন করে না, বরং এটি সমুদ্র থেকে সরাসরি স্থলে সেনা নামানোর জন্য বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন।
ধারণা করা হচ্ছে, কোনো জরুরি সংকট মোকাবিলা কিংবা ইরানের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে এই বিশেষ প্রশিক্ষিত মেরিন সেনাদের ব্যবহার করা হতে পারে। এখন পর্যন্ত আকাশপথে হামলা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হলেও এই স্থলবাহিনী মোতায়েন নির্দেশ করছে যে পেন্টাগন যুদ্ধের একটি নতুন ধাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ এটিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে দেশটি বর্তমানে ইরানে তাদের সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করছে। আড়াই হাজার মেরিন সেনার এই যাত্রাকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির একটি লক্ষণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে খুব দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করার বা শান্তি আলোচনার কোনো সুনির্দিষ্ট সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না; বরং একের পর এক শক্তিশালী সামরিক ইউনিট মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই মোতায়েন কেবল ইরানের জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির সঙ্গে এই নতুন মেরিন ইউনিট যুক্ত হলে আকাশ, জল ও স্থল—তিন পথেই ইরান বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ সেনাদলের এই অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টিকে কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছে।
ওকিনাওয়া থেকে রওনা হওয়া এই সেনাদলটি কতদিনের মধ্যে রণক্ষেত্রে পৌঁছাবে এবং তাদের সুনির্দিষ্ট মিশন কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই ‘উভচর’ যুদ্ধজাহাজ ও স্থলবাহিনীর আগমন সংঘাতের ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।