১০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এপ্রিল মাসেই বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনছে সরকার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ Time View

সবুজদিন ডেস্ক।।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর শক্তিশালী করতে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, এপ্রিল মাসের মধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন টাকা বা ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তটি মূলত পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা, যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এয়ারবাস থেকে বিমান কেনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বোয়িংয়ের দিকে ঝুঁকেছিল।

প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তীব্র উড়োজাহাজ সংকট কাটাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিমানের বহরে আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মেটাতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন। ২০৩৪-৩৫ অর্থ বছরের মধ্যে বিমানের বহরে মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা ৪৭টিতে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।

বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও সরকারের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে একটি ‘মিশ্র বহর’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে যাতে করে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে না হয়।

এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদে বিমানের বহর বাড়াতে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে লিজ বা ভাড়ার ভিত্তিতে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বহর সম্প্রসারণের এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী জুন মাসে জাপানের টোকিওতে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্থগিত করা হয়েছিল।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বোয়িং থেকে এই ১৪টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা বাড়বে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

এপ্রিল মাসেই বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনছে সরকার

Update Time : ০২:৪১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন ডেস্ক।।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর শক্তিশালী করতে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, এপ্রিল মাসের মধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন টাকা বা ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তটি মূলত পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা, যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এয়ারবাস থেকে বিমান কেনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বোয়িংয়ের দিকে ঝুঁকেছিল।

প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তীব্র উড়োজাহাজ সংকট কাটাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিমানের বহরে আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মেটাতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন। ২০৩৪-৩৫ অর্থ বছরের মধ্যে বিমানের বহরে মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা ৪৭টিতে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।

বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও সরকারের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে একটি ‘মিশ্র বহর’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে যাতে করে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে না হয়।

এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদে বিমানের বহর বাড়াতে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে লিজ বা ভাড়ার ভিত্তিতে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বহর সম্প্রসারণের এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী জুন মাসে জাপানের টোকিওতে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্থগিত করা হয়েছিল।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বোয়িং থেকে এই ১৪টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা বাড়বে।