সবুজদিন রিপোর্ট।।
গণভোটের দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ৭টি বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আমাদের মূল দাবি গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দখলদারিত্ব, স্বাস্থ্যখাতের নৈরাজ্য, শিক্ষাঙ্গণে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের দ্বারা শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত এসব কিছু বন্ধ করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে গণতন্ত্রের বিকাশ অপরিহার্য। কিন্তু সরকার সেদিকে না গিয়ে সব স্তরে দলীয়করণ, নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি পদোন্নতিতে একচেটিয়া দলীয় লোক নিয়োগ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে সেখানে দলীয় লোকদের দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ সবকিছুর বিরুদ্ধে জনমত গঠনের লক্ষ্যে আমরা রাজপথে আমাদের কর্মসূচি দিচ্ছি।
বিভাগীয় সমাবেশের সূচি প্রকাশ বিষয়ে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, আগামী ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ। ১৩ জুন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ। ২০ জুন খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ।২৭ জুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশ। ১১ জুলাই রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ। ১৮ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ। ২৫ জুলাই সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিলেও সরকার জনগণের সেই রায়কে উপেক্ষা করছে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার এখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সংসদীয় মেজরিটির জোরে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে।
আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি সমাবেশ রাখা হয়েছে। ঈদের ছুটির পর জুন মাস থেকে পুরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ শুরু হবে এবং বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানান।
হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, বিভাগীয় সমাবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পরিকল্পনাও নিয়েছে ১১ দল। বিশেষ করে শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে। এছাড়া দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার চলমান থাকবে।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে। ছাত্র সমাজকেও এই আন্দোলনে সজাগ ভূমিকা পালন করতে হবে।
উল্লেখ্য, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বর্তমানে জোটের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে গণমিছিল করেছে ১১ দল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
Reporter Name 




















