০৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে নদীতে নামবে অর্ধলক্ষাধিক জেলে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে পদ্মা-মেঘনাসহ ছয়টি নদী অঞ্চলে মাছ শিকারে নামবে জেলেরা চাঁদপুরের অর্ধলক্ষাধিক জেলে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই তাদের নৌকা মেরামত ও জাল সেলাইয়ের কাজ শেষ করেছে। এখন নতুন আশায় বুক বেঁধে তারা অপেক্ষা করছেন নদীতে নামার। ইলিশ ধরার সেই পুরোনো ব্যস্ততায় ফেরার।

তবে জেলেদের অভিযোগ, চলতি বছরে জ্বালানি তেলের সংকটকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে অভিযানে তেমন জোর দেওয়া হয়নি। ফলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই নদীতে নেমে অবাধে জাটকা আহরণ করেছে। এতে করে ইলিশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন জেলে ও গবেষকরা। তাদের মতে, জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চর ভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকাসহ ৬টি নদী অঞ্চলে মার্চ-এপ্রিল— এই দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও চলতি বছর জ্বালানি তেলের সংকটকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে নদীতে তেমন জোরালো অভিযান দেখা যায়নি। ফলে অনেক জেলে সুযোগ নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অবাধে জাটকাসহ বিভিন্ন মাছ আহরণ করেছে।

বেশ কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কিছু অসাধু জেলে এসে অধিকাংশ সময় জাটকা ধরে নিয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞার সময় যে পরিমাণ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তা দিয়ে কিছুই হয় না তাদের। তাদের আশঙ্কা, একদিকে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কম, অন্যদিকে অবাধে জাটকা ধরার কারণে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ দুই মাস পর নদীতে নেমেও যদি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়া যায়। তবে তাদের কষ্ট ও হতাশার শেষ থাকবে না। কারণ তারা বিভিন্ন সমিতির কাছ থেকে কিস্তি নিয়ে এখন ঋণে জর্জড়িত হয়ে আছে।

নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা সময়ে বিপুল পরিমাণ জাল-নৌকামহ জেলেদের আটক করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সংকটে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনায় বিঘ্ন হয়েছে। তবে নদীতে তেমন একটা মাছ নেই, এবারের অভিযানে এ পর্যন্ত ১৪ কোটি মিটার জাল, ৮ হাজার কেজি মাছ ও ১৭০টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে মামলা হয়েছে ১৫০টি ও ৫ শতাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৩৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, ইলিশ এই বছর ৭০-৮০ শতাংশ জাটকা সংরক্ষণ করা গেলেও পৌনে ৬ লক্ষ মেট্রিক টন ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযানকালে জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ৪০ কেজি করে ৪ কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি চাল প্রদান করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

৭ মার্চের ভাষণ সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে নদীতে নামবে অর্ধলক্ষাধিক জেলে

Update Time : ০৬:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে পদ্মা-মেঘনাসহ ছয়টি নদী অঞ্চলে মাছ শিকারে নামবে জেলেরা চাঁদপুরের অর্ধলক্ষাধিক জেলে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই তাদের নৌকা মেরামত ও জাল সেলাইয়ের কাজ শেষ করেছে। এখন নতুন আশায় বুক বেঁধে তারা অপেক্ষা করছেন নদীতে নামার। ইলিশ ধরার সেই পুরোনো ব্যস্ততায় ফেরার।

তবে জেলেদের অভিযোগ, চলতি বছরে জ্বালানি তেলের সংকটকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে অভিযানে তেমন জোর দেওয়া হয়নি। ফলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই নদীতে নেমে অবাধে জাটকা আহরণ করেছে। এতে করে ইলিশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন জেলে ও গবেষকরা। তাদের মতে, জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চর ভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকাসহ ৬টি নদী অঞ্চলে মার্চ-এপ্রিল— এই দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও চলতি বছর জ্বালানি তেলের সংকটকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে নদীতে তেমন জোরালো অভিযান দেখা যায়নি। ফলে অনেক জেলে সুযোগ নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অবাধে জাটকাসহ বিভিন্ন মাছ আহরণ করেছে।

বেশ কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কিছু অসাধু জেলে এসে অধিকাংশ সময় জাটকা ধরে নিয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞার সময় যে পরিমাণ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তা দিয়ে কিছুই হয় না তাদের। তাদের আশঙ্কা, একদিকে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কম, অন্যদিকে অবাধে জাটকা ধরার কারণে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ দুই মাস পর নদীতে নেমেও যদি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়া যায়। তবে তাদের কষ্ট ও হতাশার শেষ থাকবে না। কারণ তারা বিভিন্ন সমিতির কাছ থেকে কিস্তি নিয়ে এখন ঋণে জর্জড়িত হয়ে আছে।

নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা সময়ে বিপুল পরিমাণ জাল-নৌকামহ জেলেদের আটক করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সংকটে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনায় বিঘ্ন হয়েছে। তবে নদীতে তেমন একটা মাছ নেই, এবারের অভিযানে এ পর্যন্ত ১৪ কোটি মিটার জাল, ৮ হাজার কেজি মাছ ও ১৭০টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে মামলা হয়েছে ১৫০টি ও ৫ শতাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৩৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, ইলিশ এই বছর ৭০-৮০ শতাংশ জাটকা সংরক্ষণ করা গেলেও পৌনে ৬ লক্ষ মেট্রিক টন ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযানকালে জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ৪০ কেজি করে ৪ কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি চাল প্রদান করা হয়েছে।