০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেসব কারণে এই গরমে দই খাওয়া জরুরি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ Time View

সবুজদিন ডেস্ক

গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে এবং শরীর সুস্থ রাখতে দই কিংবা টকদই অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন নিয়মিত পাতে দই রাখলে আপনাপর শরীর ও পেটের ওপর নানাবিধ ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ গ্রীষ্মকালে আমাদের শরীরের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। আর তীব্র সূর্যের আলো এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে আমাদের শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে।
এ সমস্যাগুলো এড়াতে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন জিনিস অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যা তাপের কারণে সৃষ্ট সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করবে।
এর জন্য দই হতে পারে একটি বিকল্প, যা কেবল পাচনতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না; বরং আপনার শরীরকে ঠান্ডা করতে এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে থাকে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দই একটি দুগ্ধজাত পণ্য, যা ল্যাকটোব্যাসিলাস বুলগারিকাস এবং স্ট্রেপ্টোকক্কাস থার্মোফিলাসের মতো উপকারী ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি করা হয়।
তারা বলেন, দই তৈরির প্রক্রিয়াটি দুধকে প্রোবায়োটিক, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং খনিজসমৃদ্ধ একটি ক্রিমি, ট্যাঞ্জি পদার্থে রূপান্তরিত করে, যা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সুবিধা দেয়। তাই গ্রীষ্মের দিনে দই খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, গ্রীষ্মে দই খেলে আমরা কী কী উপকার পেতে পারি—
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবডির উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে এবং ইমিউন কোষকে সক্রিয় করে, যা আপনার শরীরের সংক্রমণ ও রোগ সৃষ্টিকারী এজেন্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ায়। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন— ডায়েটে নিয়মিত দই রাখুন। এতে শরীরের ইমিউনিটি বাড়বে।
দই খেলে পেট ভরা থাকে। ফলে বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ছাড়া গ্রীষ্মের দিনে দই খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। এটি খেলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং তাপজনিত সমস্যা কমে যায়। আর দই হিটস্ট্রোক এবং তাপের কারণে সৃষ্ট পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। দইয়ে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া দইয়ে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এটি নিয়মিত খেলে আপনার চুল পুষ্টি পাবে এবং চুল পড়া ও শুষ্কতা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। এর পাশাপাশি এটি আপনার ত্বককে শুষ্ক হতেও বাধা দেয়।

দই ভিটামিন ও খনিজপদার্থে সমৃদ্ধ। যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি১২। দই খেলে আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এক কাপ দইয়ে ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।
আর দই খেলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর প্রোটিন ও চর্বি উপাদান, যা কার্বোহাইড্রেটের হজমকে ধীর করে দেয়। রক্তের প্রবাহে চিনির এই ধীরে ধীরে মুক্তি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি রোধ করে। তাই দই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বিশেষভাবে উপকারী। কারণ এটি স্থিতিশীল গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ বয়কট করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়: স্পিকার

যেসব কারণে এই গরমে দই খাওয়া জরুরি

Update Time : ১২:০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন ডেস্ক

গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে এবং শরীর সুস্থ রাখতে দই কিংবা টকদই অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন নিয়মিত পাতে দই রাখলে আপনাপর শরীর ও পেটের ওপর নানাবিধ ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ গ্রীষ্মকালে আমাদের শরীরের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। আর তীব্র সূর্যের আলো এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে আমাদের শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে।
এ সমস্যাগুলো এড়াতে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন জিনিস অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যা তাপের কারণে সৃষ্ট সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করবে।
এর জন্য দই হতে পারে একটি বিকল্প, যা কেবল পাচনতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না; বরং আপনার শরীরকে ঠান্ডা করতে এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে থাকে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দই একটি দুগ্ধজাত পণ্য, যা ল্যাকটোব্যাসিলাস বুলগারিকাস এবং স্ট্রেপ্টোকক্কাস থার্মোফিলাসের মতো উপকারী ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি করা হয়।
তারা বলেন, দই তৈরির প্রক্রিয়াটি দুধকে প্রোবায়োটিক, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং খনিজসমৃদ্ধ একটি ক্রিমি, ট্যাঞ্জি পদার্থে রূপান্তরিত করে, যা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সুবিধা দেয়। তাই গ্রীষ্মের দিনে দই খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, গ্রীষ্মে দই খেলে আমরা কী কী উপকার পেতে পারি—
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবডির উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে এবং ইমিউন কোষকে সক্রিয় করে, যা আপনার শরীরের সংক্রমণ ও রোগ সৃষ্টিকারী এজেন্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ায়। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন— ডায়েটে নিয়মিত দই রাখুন। এতে শরীরের ইমিউনিটি বাড়বে।
দই খেলে পেট ভরা থাকে। ফলে বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ছাড়া গ্রীষ্মের দিনে দই খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। এটি খেলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং তাপজনিত সমস্যা কমে যায়। আর দই হিটস্ট্রোক এবং তাপের কারণে সৃষ্ট পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। দইয়ে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া দইয়ে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এটি নিয়মিত খেলে আপনার চুল পুষ্টি পাবে এবং চুল পড়া ও শুষ্কতা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। এর পাশাপাশি এটি আপনার ত্বককে শুষ্ক হতেও বাধা দেয়।

দই ভিটামিন ও খনিজপদার্থে সমৃদ্ধ। যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি১২। দই খেলে আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এক কাপ দইয়ে ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।
আর দই খেলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর প্রোটিন ও চর্বি উপাদান, যা কার্বোহাইড্রেটের হজমকে ধীর করে দেয়। রক্তের প্রবাহে চিনির এই ধীরে ধীরে মুক্তি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি রোধ করে। তাই দই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বিশেষভাবে উপকারী। কারণ এটি স্থিতিশীল গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে।