০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র ‘সৎ উদ্দেশ্যেই এসেছিল’: জেডি ভ্যান্স

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘সৎ উদ্দেশ্যেই এসেছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনায় নমনীয় মনোভাব এবং সদিচ্ছা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ইরান মার্কিন শর্ত মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই মন্তব্য করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা ইরানিদের সঙ্গে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি, সেটা আশার কথা। কিন্তু খারাপ খবর হলো যে, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আর আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতিকর।’

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বন্ধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের ‘মূল লক্ষ্য’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি ওই কথা বলেন।

ভ্যান্স বলেন, ‘সহজ কথা হলো, আমরা ইরানের কাছ থেকে এমন একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জামও খুঁজবে না যা দিয়ে তারা দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।

এই বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘প্রধান লক্ষ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

তবে তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন যে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেজন্য তাদের পক্ষ থেকে ‘দৃঢ় মানসিক অঙ্গীকার’ প্রয়োজন।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখনো সেই অঙ্গীকার দেখতে পাইনি। তবে ভবিষ্যতে তা দেখতে পাব বলে আমরা আশা করি।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওই বৈঠকে ইরানের জব্দ করা সম্পদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ‘আমরা ওই সব বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি’ উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, ‘এর বাইরেও আরও অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি ছিল।’

এই আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা যথেষ্ট নমনীয় ছিলাম এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা আমাদের ছিল।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ এর নির্বাচনে প্রানকৃষ্ণ দাশ সভাপতি নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্র ‘সৎ উদ্দেশ্যেই এসেছিল’: জেডি ভ্যান্স

Update Time : ০১:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘সৎ উদ্দেশ্যেই এসেছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনায় নমনীয় মনোভাব এবং সদিচ্ছা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ইরান মার্কিন শর্ত মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই মন্তব্য করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা ইরানিদের সঙ্গে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি, সেটা আশার কথা। কিন্তু খারাপ খবর হলো যে, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আর আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতিকর।’

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বন্ধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের ‘মূল লক্ষ্য’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি ওই কথা বলেন।

ভ্যান্স বলেন, ‘সহজ কথা হলো, আমরা ইরানের কাছ থেকে এমন একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জামও খুঁজবে না যা দিয়ে তারা দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।

এই বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘প্রধান লক্ষ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

তবে তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন যে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেজন্য তাদের পক্ষ থেকে ‘দৃঢ় মানসিক অঙ্গীকার’ প্রয়োজন।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখনো সেই অঙ্গীকার দেখতে পাইনি। তবে ভবিষ্যতে তা দেখতে পাব বলে আমরা আশা করি।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওই বৈঠকে ইরানের জব্দ করা সম্পদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ‘আমরা ওই সব বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি’ উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, ‘এর বাইরেও আরও অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি ছিল।’

এই আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা যথেষ্ট নমনীয় ছিলাম এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা আমাদের ছিল।’