০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেসব ফলের রস খেলেও বাড়তে পারে সুগার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক

ফল খাওয়া ভালো, এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এ বিষয়টি আমরা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু আপনার শরীরের নানা সমস্যার কারণে অনেক সময় নানারকম ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। তেমন একটি রোগ হলো সুগার।
একবার এ রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসকের কাছ থেকে নানারকম বিধিনিষেধ চলে আসে। এমনকি গরমকালে প্রিয় আম খেলেও বাড়তে পারে শর্করার পরিমাণ। এখন প্রশ্ন হলো— ফলের রস কি রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়? এই প্রশ্ন নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, আসলে ততটা নয়।
অবশ্য কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে ফলের রস স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে। এই যেমন—অল্প পরিমাণে (প্রায় ১ গ্লাস বা ৪–৬ আউন্স) জুস পান করা। খাবারের সঙ্গে জুস খাওয়া ভালো, যাতে প্রোটিন বা ফ্যাট শর্করা শোষণ ধীরে করে। চিনি যোগ করা জুস এড়িয়ে ১০০ শতাংশ প্রাকৃতিক জুস বেছে নেওয়াই ভালো।
তবে মনে রাখবেন, সব জুস এক নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, সব ধরনের জুস একই রকম প্রভাব ফেলে না। এই যেমন—আপেল বা আঙুরের মতো ফলের জুস রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়াতে পারে, কিন্তু পাল্পযুক্ত জুস তুলনামূলকভাবে ধীরে প্রভাব ফেলে। ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবিটিস থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এ অবস্থায় শরীরের ইনসুলিন প্রতিক্রিয়া কম থাকে। ফলে জুস খেলে শর্করার ওঠানামা বেশি হতে পারে। তাই এ ধরনের ব্যক্তিদের জুস খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। তার মানে এই নয় যে, ফলের রস সম্পূর্ণ ক্ষতিকর।
গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে শতভাগ খাঁটি ফলের রস খেলে, তা সরাসরি ডায়াবেটিসের কারণ হয় না। বরং সমস্যা হয় তখনই, যখন অতিরিক্ত পরিমাণে বা নিয়মিত বেশি রস খাওয়া হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—ফলের রস ও ফলের মধ্যে পার্থক্য কথায়। সম্পূর্ণ ফলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা আপনার শরীরে শর্করার শোষণ ধীর করে। কিন্তু ফলের রসে সেই ফাইবার থাকে না। তাই ফলে রস খেলে চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। আর সম্পূর্ণ ফল খেলে শরীর ধীরে ধীরে শক্তি পায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। কিন্তু জুসে সেই নিয়ন্ত্রণ কম থাকে। কারণ এতে ফাইবার কম এবং প্রাকৃতিক চিনির ঘনত্ব বেশি। তাই বিশেষজ্ঞরা বেশিরভাগ সময় গোটা ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ এর নির্বাচনে প্রানকৃষ্ণ দাশ সভাপতি নির্বাচিত

যেসব ফলের রস খেলেও বাড়তে পারে সুগার

Update Time : ০১:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক

ফল খাওয়া ভালো, এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এ বিষয়টি আমরা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু আপনার শরীরের নানা সমস্যার কারণে অনেক সময় নানারকম ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। তেমন একটি রোগ হলো সুগার।
একবার এ রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসকের কাছ থেকে নানারকম বিধিনিষেধ চলে আসে। এমনকি গরমকালে প্রিয় আম খেলেও বাড়তে পারে শর্করার পরিমাণ। এখন প্রশ্ন হলো— ফলের রস কি রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়? এই প্রশ্ন নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, আসলে ততটা নয়।
অবশ্য কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে ফলের রস স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে। এই যেমন—অল্প পরিমাণে (প্রায় ১ গ্লাস বা ৪–৬ আউন্স) জুস পান করা। খাবারের সঙ্গে জুস খাওয়া ভালো, যাতে প্রোটিন বা ফ্যাট শর্করা শোষণ ধীরে করে। চিনি যোগ করা জুস এড়িয়ে ১০০ শতাংশ প্রাকৃতিক জুস বেছে নেওয়াই ভালো।
তবে মনে রাখবেন, সব জুস এক নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, সব ধরনের জুস একই রকম প্রভাব ফেলে না। এই যেমন—আপেল বা আঙুরের মতো ফলের জুস রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়াতে পারে, কিন্তু পাল্পযুক্ত জুস তুলনামূলকভাবে ধীরে প্রভাব ফেলে। ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবিটিস থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এ অবস্থায় শরীরের ইনসুলিন প্রতিক্রিয়া কম থাকে। ফলে জুস খেলে শর্করার ওঠানামা বেশি হতে পারে। তাই এ ধরনের ব্যক্তিদের জুস খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। তার মানে এই নয় যে, ফলের রস সম্পূর্ণ ক্ষতিকর।
গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে শতভাগ খাঁটি ফলের রস খেলে, তা সরাসরি ডায়াবেটিসের কারণ হয় না। বরং সমস্যা হয় তখনই, যখন অতিরিক্ত পরিমাণে বা নিয়মিত বেশি রস খাওয়া হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—ফলের রস ও ফলের মধ্যে পার্থক্য কথায়। সম্পূর্ণ ফলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা আপনার শরীরে শর্করার শোষণ ধীর করে। কিন্তু ফলের রসে সেই ফাইবার থাকে না। তাই ফলে রস খেলে চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। আর সম্পূর্ণ ফল খেলে শরীর ধীরে ধীরে শক্তি পায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। কিন্তু জুসে সেই নিয়ন্ত্রণ কম থাকে। কারণ এতে ফাইবার কম এবং প্রাকৃতিক চিনির ঘনত্ব বেশি। তাই বিশেষজ্ঞরা বেশিরভাগ সময় গোটা ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন।