আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে হামলা অব্যাহত থাকলে ইরানও তার প্রতিরোধ ও পাল্টা আঘাত জারি রাখবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আলী মুসাভি। রবিবার বিবিসির ‘সানডে উইথ লরা কুয়েন্সবার্গ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ অবস্থান ব্যক্ত করেন।
গত এক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের প্রেক্ষাপটে মুসাভি বলেন, ‘যদি কোনো স্থাপনা, সম্পত্তি বা সামরিকঘাঁটি ইরানি জাতির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, তবে আমরা সেগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করব।’
যদিও শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে অনাকাক্সিক্ষত ক্ষতির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রদূত মুসাভি স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনোভাবেই ‘আত্মসমর্পণ’ নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের ওপর আঘাত করার কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই। কিন্তু যদি আগ্রাসন চলতেই থাকে, তবে আত্মরক্ষার্থে আমাদের হাত গুটিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই।’
লন্ডনের হাইড পার্কের কাছে ইরানি দূতাবাসে বসে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে মুসাভি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধের বিস্তার ইরান চায় না, কিন্তু মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের ওপরই তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে।
যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণকালে ইরান ইতোমধ্যে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। পশ্চিমা কর্মকর্তারা একে ‘বিবেচনাহীন আক্রমণ’ হিসেবে দেখলেও তেহরান একে স্রেফ ‘প্রতিরোধ’ হিসেবেই অভিহিত করছে। গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহতের পর দেশটির নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম কোনো বড় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া।
Reporter Name 























