১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্সেনিক ঝুঁকিতে দেশের ১১ ভাগ মানুষ: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ৮ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১১ ভাগ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। লিখিত প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টটার সার্ভে-২০১৯-এর তথ্য তিনি সংসদে উত্থাপন করেন।

সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ বর্তমানে মারাত্মক আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কী; প্রাপ্ত সফলতা কী?’

জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টটার সার্ভে-২০১৯ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১১ ভাগ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।’

এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১২,১৫,৯৪৮টি আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গভীর নলকূপ ছাড়াও পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পুকুর খনন ও পুনঃখননসহ সৌরচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। এতে আশা করা যায়, বর্তমানে যারা আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের হার শতকরা ৫-৬ ভাগে নেমে আসবে।’

গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রাপ্ত সফলতা
১। সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প-এ পর্যন্ত ৬,১৫,৪৯৭টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
২। উপকূলীয় জেলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প-এ পর্যন্ত ১,৯৯,৪৮৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
৩। পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ১,৭৪,৬৭৬টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
৪। পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ৮৮,২৩৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
৫। অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ১,৩৮,০৫৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অন্য কোনো দেশের কনসার্নের সুযোগ নেই : তথ্য উপদেষ্টা

আর্সেনিক ঝুঁকিতে দেশের ১১ ভাগ মানুষ: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

Update Time : ০২:১২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১১ ভাগ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। লিখিত প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টটার সার্ভে-২০১৯-এর তথ্য তিনি সংসদে উত্থাপন করেন।

সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ বর্তমানে মারাত্মক আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কী; প্রাপ্ত সফলতা কী?’

জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টটার সার্ভে-২০১৯ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১১ ভাগ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।’

এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১২,১৫,৯৪৮টি আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গভীর নলকূপ ছাড়াও পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পুকুর খনন ও পুনঃখননসহ সৌরচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। এতে আশা করা যায়, বর্তমানে যারা আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের হার শতকরা ৫-৬ ভাগে নেমে আসবে।’

গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রাপ্ত সফলতা
১। সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প-এ পর্যন্ত ৬,১৫,৪৯৭টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
২। উপকূলীয় জেলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প-এ পর্যন্ত ১,৯৯,৪৮৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
৩। পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ১,৭৪,৬৭৬টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
৪। পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ৮৮,২৩৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
৫। অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্প (সমাপ্ত)-এ পর্যন্ত ১,৩৮,০৫৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।