০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় এসএসসির প্রবেশপত্র পায়নি ২ শতাধিক শিক্ষার্থী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ Time View

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগের দিনও প্রবেশপত্র হাতে পায়নি গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী। ফলে পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা-এমন শঙ্কায় দিন কাটছে শিক্ষার্থীদের। একইসঙ্গে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরাও। এ পরিস্থিতির জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করছেন তারা।

সোমবার সকাল থেকেই পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্রের আশায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের বারান্দায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরেফা, জুঁই, জিহাদ ও সিয়ামের মতো অনেকেই জানান, রাত পোহালেই পরীক্ষা, অথচ এখনো প্রবেশপত্র হাতে পাইনি। আমরা পরীক্ষা দিতে পারব কিনা, সেটাই বুঝতে পারছি না।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরাও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান সোহেল ও অফিস সহকারী নাঈমের গাফিলতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, প্রবেশপত্র দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা দাবি করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নাঈম প্রবেশপত্রের নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।

শুধু জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়েই নয়, পলাশবাড়ীর গৃধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরও ২৯ জন পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এমইউ অ্যাকাডেমির প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীর হাতে ভুলে ভরা প্রবেশপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সঠিক প্রবেশপত্র সরবরাহ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তের ১৩টি ঘাট মাদক চোরাচালানের জন্য এখন উন্মুক্ত রুট

গাইবান্ধায় এসএসসির প্রবেশপত্র পায়নি ২ শতাধিক শিক্ষার্থী

Update Time : ১০:১৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগের দিনও প্রবেশপত্র হাতে পায়নি গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী। ফলে পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা-এমন শঙ্কায় দিন কাটছে শিক্ষার্থীদের। একইসঙ্গে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরাও। এ পরিস্থিতির জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করছেন তারা।

সোমবার সকাল থেকেই পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্রের আশায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের বারান্দায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরেফা, জুঁই, জিহাদ ও সিয়ামের মতো অনেকেই জানান, রাত পোহালেই পরীক্ষা, অথচ এখনো প্রবেশপত্র হাতে পাইনি। আমরা পরীক্ষা দিতে পারব কিনা, সেটাই বুঝতে পারছি না।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরাও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান সোহেল ও অফিস সহকারী নাঈমের গাফিলতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, প্রবেশপত্র দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা দাবি করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নাঈম প্রবেশপত্রের নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।

শুধু জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়েই নয়, পলাশবাড়ীর গৃধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরও ২৯ জন পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এমইউ অ্যাকাডেমির প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীর হাতে ভুলে ভরা প্রবেশপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সঠিক প্রবেশপত্র সরবরাহ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।