সবুজদিন রিপোর্ট।।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এই সংঘাত আজ শনিবার সকালেও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে।
দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বর্তমানে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার প্রচারণার জন্য মাইকিং করতে বের হয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মুনসুরাবাদ বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা ব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে।
এরপর রাতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ঢাল-সুরকি নিয়ে আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপক্ষে মুনসুরাবাদ গ্রামবাসী এবং অন্যপক্ষে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েক’শ মানুষ লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড ও হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চলছে এই তাণ্ডব। সংঘর্ষ চলাকালীন বেশ কিছু দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি বড় দল অবস্থান করলেও চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের মারমুখী অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Reporter Name 






















