১০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘তামাক নিয়ন্ত্রণে’ তরুণদের দাবি সংসদে তুলে ধরা হবে : ববি হাজ্জাজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০৫ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

তামাকমুক্ত তরুণ সমাজ গড়তে তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ আইন আকারে পাস করা জরুরি। তামাক নিয়ন্ত্রণে তরুণদের দাবি সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থ বছরের বাজেটে তামাক পণ্যের দাম কার্যকরভাবে বৃদ্ধির বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে করে তামাকপণ্য শিশু-কিশোরদের নাগালের বাইরে চলে যায়। পাশাপাশি, স্কুল-কলেজের একশ গজের ভেতরে কেউ যাতে তামাকপণ্য বিক্রি না করতে পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।

ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবনা অনুযায়ী তামাকপণ্যের দাম বাড়ালে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব। যা চলতি অর্থ বছরের চেয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

ইকবাল মাসুদ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশে তামাকের ব্যবহার কমানো না গেলে কোনোভাবেই দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব না। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও এফসিটিসি বাস্তবায়নে তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ অবিকৃতভাবে সংসদে পাশ করা জরুরি।

এ সময় বক্তারা তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে ই-সিগারেটের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারা যুক্ত করে সংসদের চলতি অধিবেশনেই বিল আকারে পেশ ও দ্রুত আইন হিসেবে পাসের দাবি জানান।

মূল প্রবন্ধে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম জানান, দেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাতদ্রব্য ব্যবহার করে ফলে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত দৈনিক প্রায় ৫৪৬ জন মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করছে। পাশাপাশি তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তরুণদের তামাকে নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের মধ্যম ও নিম্ন স্তরকে একীভূত করে ১০ শলাকা প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা এবং সব স্তরের প্যাকেট প্রতি ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

তিনি জানান, তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশটি পাশ করলে এই ক্ষতি রোধ করা সম্ভব। এবং প্রস্তাবিত তামাক কর সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৮ প্রাপ্তবয়স্ক ও ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৫ তরুণ জনগোষ্ঠীর অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।

ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য আহ্‌ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা ও সদস্য তাসনিম হাসান আবিরসহ অনেকেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

‘তামাক নিয়ন্ত্রণে’ তরুণদের দাবি সংসদে তুলে ধরা হবে : ববি হাজ্জাজ

Update Time : ০৭:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

তামাকমুক্ত তরুণ সমাজ গড়তে তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ আইন আকারে পাস করা জরুরি। তামাক নিয়ন্ত্রণে তরুণদের দাবি সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থ বছরের বাজেটে তামাক পণ্যের দাম কার্যকরভাবে বৃদ্ধির বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে করে তামাকপণ্য শিশু-কিশোরদের নাগালের বাইরে চলে যায়। পাশাপাশি, স্কুল-কলেজের একশ গজের ভেতরে কেউ যাতে তামাকপণ্য বিক্রি না করতে পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।

ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবনা অনুযায়ী তামাকপণ্যের দাম বাড়ালে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব। যা চলতি অর্থ বছরের চেয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

ইকবাল মাসুদ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশে তামাকের ব্যবহার কমানো না গেলে কোনোভাবেই দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব না। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও এফসিটিসি বাস্তবায়নে তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ অবিকৃতভাবে সংসদে পাশ করা জরুরি।

এ সময় বক্তারা তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে ই-সিগারেটের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারা যুক্ত করে সংসদের চলতি অধিবেশনেই বিল আকারে পেশ ও দ্রুত আইন হিসেবে পাসের দাবি জানান।

মূল প্রবন্ধে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম জানান, দেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাতদ্রব্য ব্যবহার করে ফলে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত দৈনিক প্রায় ৫৪৬ জন মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করছে। পাশাপাশি তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তরুণদের তামাকে নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের মধ্যম ও নিম্ন স্তরকে একীভূত করে ১০ শলাকা প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা এবং সব স্তরের প্যাকেট প্রতি ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

তিনি জানান, তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশটি পাশ করলে এই ক্ষতি রোধ করা সম্ভব। এবং প্রস্তাবিত তামাক কর সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৮ প্রাপ্তবয়স্ক ও ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৫ তরুণ জনগোষ্ঠীর অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।

ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য আহ্‌ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা ও সদস্য তাসনিম হাসান আবিরসহ অনেকেই।