১২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে সব মাইন সরানো হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা সব নৌমাইন সরিয়ে ফেলা অথবা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নতুন করে কোনও মাইন স্থাপন করা হলে সংশ্লিষ্ট জাহাজ বা নৌযান ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী তাকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমার ভেতর থাকা ‘সব মাইন সরিয়ে ফেলা অথবা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে’।

তিনি বলেন, “নতুন করে কোনও মাইন স্থাপনকারী জাহাজ বা নৌযানকে তাৎক্ষণিকভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করা হবে’—এ বিষয়ে ইরানকে অবহিত করা হয়েছে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “মাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।”

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, তেলজাত পণ্য ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে বাধা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে।

নৌমাইন সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। পানির নিচে থাকা এসব বিস্ফোরক শনাক্ত ও অপসারণে বিশেষায়িত মাইনসুইপার এবং অন্যান্য নৌযান ব্যবহার করতে হয়। একটি মাইন বিস্ফোরিত হলে জাহাজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, প্রণালিতে মাইন স্থাপন কিংবা অন্য কোনওভাবে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাইন অপসারণের কাজ শেষ হলেও নতুন করে কোনও মাইন স্থাপনের চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেবে। এতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই বা মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা কোনও বিবৃতি প্রকাশের তথ্য সামনে আসেনি। ফলে আন্তর্জাতিক জলসীমার ঠিক কোন কোন এলাকায় মাইন অপসারণ করা হয়েছে এবং কী পরিমাণ মাইন সরানো বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও স্পষ্ট নয়। সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

হরমুজের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে সব মাইন সরানো হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

Update Time : ১১:৫২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা সব নৌমাইন সরিয়ে ফেলা অথবা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নতুন করে কোনও মাইন স্থাপন করা হলে সংশ্লিষ্ট জাহাজ বা নৌযান ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী তাকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমার ভেতর থাকা ‘সব মাইন সরিয়ে ফেলা অথবা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে’।

তিনি বলেন, “নতুন করে কোনও মাইন স্থাপনকারী জাহাজ বা নৌযানকে তাৎক্ষণিকভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করা হবে’—এ বিষয়ে ইরানকে অবহিত করা হয়েছে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “মাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।”

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, তেলজাত পণ্য ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে বাধা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে।

নৌমাইন সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। পানির নিচে থাকা এসব বিস্ফোরক শনাক্ত ও অপসারণে বিশেষায়িত মাইনসুইপার এবং অন্যান্য নৌযান ব্যবহার করতে হয়। একটি মাইন বিস্ফোরিত হলে জাহাজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, প্রণালিতে মাইন স্থাপন কিংবা অন্য কোনওভাবে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাইন অপসারণের কাজ শেষ হলেও নতুন করে কোনও মাইন স্থাপনের চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেবে। এতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই বা মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা কোনও বিবৃতি প্রকাশের তথ্য সামনে আসেনি। ফলে আন্তর্জাতিক জলসীমার ঠিক কোন কোন এলাকায় মাইন অপসারণ করা হয়েছে এবং কী পরিমাণ মাইন সরানো বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও স্পষ্ট নয়। সূত্র: আল-জাজিরা