০৫:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানিসংকটে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ৯ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার সকাল থেকে কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে কোনো স্পিডবোট চলাচল করেনি। তবে এই রুটে কাঠের বোট (ট্রলার), ফেরি এবং বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ এমভি মালঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আদিল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জগলুল হোসেন জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের অভাবে স্পিডবোট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান মেঘনা অয়েল কোম্পানি থেকে তেল না পাওয়ায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। কবে নাগাদ তেল সরবরাহ করা হবে সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ও জানাতে পারেনি।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন স্পিডবোট চালাতে তাদের প্রায় তিন হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন হয়, যা তারা সাধারণত সরকারি প্রতিষ্ঠান মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড থেকে সংগ্রহ করেন। গতকাল রোববার তাদের প্রতিষ্ঠান ৯ হাজার লিটার অকটেনের জন্য পে-অর্ডার করলেও তা মেঘনা কর্তৃপক্ষ ফেরত দিয়েছে।
এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ইতিমধ্যে তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
সন্দ্বীপ রুটে যাত্রীদের কাছে দ্রুত ও জরুরি যাতায়াতের জন্য স্পিডবোট সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবহন। গুপ্তছড়া ঘাটের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই রুটের প্রায় ৯০ শতাংশ যাত্রী স্পিডবোটে যাতায়াত করেন। হঠাৎ করে স্পিডবোট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সন্দ্বীপের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির (৪৮) জানান, সকাল ১০টার দিকে ঘাটে এসে স্পিডবোট না পেয়ে তাকে ফিরে যেতে হয়েছে। জরুরি কাজে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে একই দিনে সন্দ্বীপে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার। তিনি বলেন, তেলের অভাবে যদি ভবিষ্যতে ট্রলার বা স্টিমারও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দ্বীপবাসীদের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে এই রুটে চলাচলকারী ফেরি কপোতাক্ষের চালক (মাস্টার) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা এখনো কোনো নতুন নির্দেশনা পাননি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে তুরস্ক

জ্বালানিসংকটে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ

Update Time : ০৪:১৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার সকাল থেকে কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে কোনো স্পিডবোট চলাচল করেনি। তবে এই রুটে কাঠের বোট (ট্রলার), ফেরি এবং বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ এমভি মালঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আদিল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জগলুল হোসেন জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের অভাবে স্পিডবোট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান মেঘনা অয়েল কোম্পানি থেকে তেল না পাওয়ায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। কবে নাগাদ তেল সরবরাহ করা হবে সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ও জানাতে পারেনি।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন স্পিডবোট চালাতে তাদের প্রায় তিন হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন হয়, যা তারা সাধারণত সরকারি প্রতিষ্ঠান মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড থেকে সংগ্রহ করেন। গতকাল রোববার তাদের প্রতিষ্ঠান ৯ হাজার লিটার অকটেনের জন্য পে-অর্ডার করলেও তা মেঘনা কর্তৃপক্ষ ফেরত দিয়েছে।
এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ইতিমধ্যে তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
সন্দ্বীপ রুটে যাত্রীদের কাছে দ্রুত ও জরুরি যাতায়াতের জন্য স্পিডবোট সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবহন। গুপ্তছড়া ঘাটের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই রুটের প্রায় ৯০ শতাংশ যাত্রী স্পিডবোটে যাতায়াত করেন। হঠাৎ করে স্পিডবোট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সন্দ্বীপের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির (৪৮) জানান, সকাল ১০টার দিকে ঘাটে এসে স্পিডবোট না পেয়ে তাকে ফিরে যেতে হয়েছে। জরুরি কাজে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে একই দিনে সন্দ্বীপে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার। তিনি বলেন, তেলের অভাবে যদি ভবিষ্যতে ট্রলার বা স্টিমারও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দ্বীপবাসীদের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে এই রুটে চলাচলকারী ফেরি কপোতাক্ষের চালক (মাস্টার) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা এখনো কোনো নতুন নির্দেশনা পাননি।