শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে ভুল চিকিৎসায় রুমা আক্তার (২৫) নামে এক প্রসূতি মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই প্রসূতির স্বজনেরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। গতকাল রোববার সকালে উপজেলারমাওনা চৌরাস্তার লাইভ কেয়ার হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রুমা আক্তার (২৫) শ্রীপুর উপজেলার হেড়াপটকা গ্রামের বাসিন্দা মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার উজিলাব গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের মেয়ে।
নিহতের স্বজনরা জানান, গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে রুমা আক্তারকে সন্তান প্রসবের জন্য মাওনা চৌরাস্তার লাইভ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিজারিয়ান অপারেশনে তিনি এক ছেলে সন্তান প্রসব করেন। আজ ভোরে সেহরি খাওয়ার পর হঠাৎ করে তার পেট ফুলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পথেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকাল ৭টার দিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে লাইভ কেয়ার হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা হাসপাতালের প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে ভেতরে থাকা ফার্মেসি,ওয়েটিং কক্ষ, রিসিপশন, ডাক্তারদের কক্ষ, বিভিনবন ওয়ার্ড,অপারেশন থিযেটার,আসবাপত্র, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যাপক ভাঙচুর করে ধ্বংশ যজ্ঞ করে ফেলে। হামলায় প্রানের ভয়ে হাসপাতালে কর্মরতরা পালিয়ে যায়। স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ রেখে বিক্ষোভ করছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও শ্রীপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শিশুর বাবা মানিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ভুল চিকিৎসা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আজাহারুল ইসলাম পারভেজ মুঠোফোনে জানান, অপারেশন করেন আশুলিয়ার নারী ও শিশু কেন্দ্র ডা. রাজশ্রী ভৌমিক, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. রাজশ্রী ভৌমিক ও এনেসথিয়া করেন ডা. রেজুয়ান। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেথানে রোগীর মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে এসে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর,লুটপাট করে। হামলাকারীরা নিচ তলা থেকে তিন তলার অপারেশন থিয়েটারে ভাঙচুর করে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি করে। নগদ বিশ লাখ টাকা লুটে নেয়। হাসপাতালের ষ্টাফদের মারপিট করে আহত করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।
Reporter Name 
























