১২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎দুই দিনে ২২ কোটি টাকার লেনদেন, বাড়ছে বাংলা কিউআরের ব্যবহার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ২ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

‎দেশে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় নতুন গতি পাচ্ছে বাংলা কিউআর ব্যবস্থা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন ও ১ জুলাই এই দুই দিনে বাংলা কিউআর প্ল্যাটফর্মে মোট ৭৭ হাজার ১৬৫টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট অর্থের পরিমাণ ২২ কোটি ২ লাখ টাকা।

‎কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলা কিউআর চালুর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অভিন্ন কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে একজন গ্রাহক যেকোনো অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহার করে একই কিউআর কোড স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। এর ফলে ব্যবসায়ী ও গ্রাহক—উভয়ের জন্য ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ হয়েছে।
‎সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড থাকায় একজন ব্যবসায়ীকে একাধিক কিউআর প্রদর্শন করতে হতো। গ্রাহকের ব্যবহৃত অ্যাপ অনুযায়ী আলাদা কিউআর স্ক্যান করতে হতো। বাংলা কিউআর চালুর ফলে সেই জটিলতা দূর হয়েছে। এখন একটি মাত্র কিউআর কোড দিয়েই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা লেনদেন করতে পারছেন।

‎বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র দুই দিনেই ৭৭ হাজারের বেশি লেনদেন হওয়া ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে ২২ কোটির বেশি টাকার লেনদেন দেখায় যে, ছোট অঙ্কের কেনাকাটার পাশাপাশি তুলনামূলক বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধেও গ্রাহকরা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

‎বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বাংলা কিউআর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু নগদ অর্থের ব্যবহার কমাবে না, বরং লেনদেনকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমবে এবং হিসাব সংরক্ষণ সহজ হবে

‎তাদের মতে, সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলা কিউআরের ভূমিকা ক্রমেই বাড়বে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মুদি দোকান, ফার্মেসি, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে এই পদ্ধতির ব্যবহার বাড়লে ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হবে।

‎বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানকে বাংলা কিউআর ব্যবস্থার আওতায় যুক্ত করেছে। ধীরে ধীরে আরও প্রতিষ্ঠান এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা একটি অভিন্ন মানের কিউআর কোড ব্যবহার করে দ্রুত ও সহজে অর্থ পরিশোধের সুবিধা পাচ্ছেন।
‎ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে স্মার্টফোন ব্যবহার বৃদ্ধি, মোবাইল ইন্টারনেটের প্রসার এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় কিউআরভিত্তিক লেনদেনের পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ভবিষ্যতে সরকারি সেবা, ইউটিলিটি বিল, পরিবহন ভাড়া এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় আরও ব্যাপকভাবে বাংলা কিউআর ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে লেনদেনের সংখ্যা ও পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

‎অর্থনীতিবিদদের মতে, ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তার দেশের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। কারণ এতে অর্থের প্রবাহ আরও সহজে পর্যবেক্ষণ করা যায়, কর ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমে। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিও জোরদার হয়।

‎বাংলাদেশ ব্যাংকও ডিজিটাল আর্থিক অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বাংলা কিউআর সেই উদ্যোগগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত এই প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার যত বাড়বে, ততই নগদবিহীন লেনদেন জনপ্রিয় হবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

‎দুই দিনে ২২ কোটি টাকার লেনদেন, বাড়ছে বাংলা কিউআরের ব্যবহার

Update Time : ০৫:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

‎দেশে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় নতুন গতি পাচ্ছে বাংলা কিউআর ব্যবস্থা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন ও ১ জুলাই এই দুই দিনে বাংলা কিউআর প্ল্যাটফর্মে মোট ৭৭ হাজার ১৬৫টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট অর্থের পরিমাণ ২২ কোটি ২ লাখ টাকা।

‎কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলা কিউআর চালুর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অভিন্ন কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে একজন গ্রাহক যেকোনো অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহার করে একই কিউআর কোড স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। এর ফলে ব্যবসায়ী ও গ্রাহক—উভয়ের জন্য ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ হয়েছে।
‎সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড থাকায় একজন ব্যবসায়ীকে একাধিক কিউআর প্রদর্শন করতে হতো। গ্রাহকের ব্যবহৃত অ্যাপ অনুযায়ী আলাদা কিউআর স্ক্যান করতে হতো। বাংলা কিউআর চালুর ফলে সেই জটিলতা দূর হয়েছে। এখন একটি মাত্র কিউআর কোড দিয়েই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা লেনদেন করতে পারছেন।

‎বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র দুই দিনেই ৭৭ হাজারের বেশি লেনদেন হওয়া ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে ২২ কোটির বেশি টাকার লেনদেন দেখায় যে, ছোট অঙ্কের কেনাকাটার পাশাপাশি তুলনামূলক বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধেও গ্রাহকরা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

‎বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বাংলা কিউআর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু নগদ অর্থের ব্যবহার কমাবে না, বরং লেনদেনকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমবে এবং হিসাব সংরক্ষণ সহজ হবে

‎তাদের মতে, সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলা কিউআরের ভূমিকা ক্রমেই বাড়বে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মুদি দোকান, ফার্মেসি, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে এই পদ্ধতির ব্যবহার বাড়লে ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হবে।

‎বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানকে বাংলা কিউআর ব্যবস্থার আওতায় যুক্ত করেছে। ধীরে ধীরে আরও প্রতিষ্ঠান এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা একটি অভিন্ন মানের কিউআর কোড ব্যবহার করে দ্রুত ও সহজে অর্থ পরিশোধের সুবিধা পাচ্ছেন।
‎ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে স্মার্টফোন ব্যবহার বৃদ্ধি, মোবাইল ইন্টারনেটের প্রসার এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় কিউআরভিত্তিক লেনদেনের পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ভবিষ্যতে সরকারি সেবা, ইউটিলিটি বিল, পরিবহন ভাড়া এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় আরও ব্যাপকভাবে বাংলা কিউআর ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে লেনদেনের সংখ্যা ও পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

‎অর্থনীতিবিদদের মতে, ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তার দেশের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। কারণ এতে অর্থের প্রবাহ আরও সহজে পর্যবেক্ষণ করা যায়, কর ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমে। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিও জোরদার হয়।

‎বাংলাদেশ ব্যাংকও ডিজিটাল আর্থিক অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বাংলা কিউআর সেই উদ্যোগগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত এই প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার যত বাড়বে, ততই নগদবিহীন লেনদেন জনপ্রিয় হবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।