০৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডাবের জল খেলেই কি গরমে সুস্থ থাকবেন? কী বলছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২ Time View

অনলাইন ডেস্ক।।

চৈত্রের দাবদাহে অস্বস্তি বাড়ছে। বৈশাখে যে কী অবস্থা হবে, তা ভেবেই কপালে ভাঁজ পড়ছে সকলের। এই সুযোগে বাজারে চড়চড়িয়ে বাড়ছে ডাবের দাম। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, গরমে ডাবের জল খেলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি এড়ানো যায়। সত্যি কি তাই?
ডাবের জলের মধ্যে পটাসিয়াম, সোডিয়ামের মতো মিনারেল রয়েছে। এটি গরমকালে দেহে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করে। পুষ্টিবিদ অরিজিৎ দে বলেন, ‘গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে খনিজ বেরিয়ে যায়। সেই খনিজের ঘাটতি পূরণ করা যায় ডাবের জল খেয়ে।’ হাইড্রেশনের পাশাপাশি গরমকালে পেটের গণ্ডগোল থেকেও মুক্তি দেয় ডাবের জল।
গরমে শারীরিক অস্বস্তি এড়াতে ডাবের জল খেতেই পারেন। কিন্তু কোন সময়ে খাবেন, এটাও ভীষণ জরুরি। এই প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদ রাখী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চের মাঝে ডাবের জল খেলে ভালো উপকার মেলে। আবার ওয়ার্কআউটের পর ডাবের জল খেতে পারেন।’ ডাবের জলে ক্যালসিয়াম রয়েছে। তাই শরীরচর্চা করার পর এনার্জি ড্রিংক্সের বদলে ডাবের জল খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
কিন্তু বাজারে ডাবের আকাশছোঁয়া দাম। রোজ একটা করে কচি ডাবের জল খেলে পকেটে টান পড়তে বাধ্য। এই প্রসঙ্গে জেনারেল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল বলেন, ‘ডাবের জল খেলে ভালো, কিন্তু না খেলেও কোনও বিশেষ ক্ষতি হবে না। ডাবের জলের মধ্যে মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু শুধু ডাবের জল খেলেই যে সুস্থ থাকা যাবে, এমনটাও নয়।’ একই মত পোষণ করেছেন পুষ্টিবিদ অরিজিৎ। ডাবের জল না খেয়েও দেহে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি বজায় রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদ। এক গ্লাস জলে নুন-চিনি, লেবুর রস মিশিয়ে খেলেও উপকার পাবেন। তবে, যাঁরা রাস্তায় রোদে ঘুরে কাজ করেন, তাঁরা ডাবের জল খেতে পারেন।
কিন্তু ভুলেও প্যাকেটবন্দি ডাবের জল খাওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ডাক্তার ও ডায়েটিশিয়ানরা। তাঁদের বক্তব্য, প্যাকেটজাত ডাবের জলে বিভিন্ন ধরনের প্রিজ়ারভেটিভ থাকে। এই ধরনের পানীয় শরীরের কোনও উপকার করে না। এর চেয়ে তাজা ডাবের জল খাওয়া ভালো।
ডাবের জলে যেমন ইলেক্ট্রোলাইট থাকে, তেমন শর্করাও রয়েছে। যাঁদের ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির রোগ রয়েছে, তাঁরা বুঝতে পারেন না এই পানীয় খাবেন কি না। ডাঃ পাল বলেন, ‘ডাবের জল যে পরিমাণ সোডিয়াম-পটাশিয়াম বা শর্করা রয়েছে, যা খুব বেশি প্রভাব ফেলে না প্রেশার-সুগার রোগীদের উপর। তাই মাঝেমধ্যে ডাবের জল খাওয়ায় কোনও ক্ষতি নেই।’ কিন্তু অতিরিক্ত কোনও খাবারই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। পুষ্টিবিদ রাখী জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর বলেই যে বেশি খেতে হবে, এই ভুল করা চলবে না। দিনে একটা ডাবের জল খাওয়ায় ক্ষতি নেই। কিন্তু যদি কিডনির সমস্যা বা হার্টের সমস্যা থাকে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ডাবের জল খাওয়া ভালো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাবের জল খেলেই কি গরমে সুস্থ থাকবেন? কী বলছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা?

Update Time : ০৩:২৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক।।

চৈত্রের দাবদাহে অস্বস্তি বাড়ছে। বৈশাখে যে কী অবস্থা হবে, তা ভেবেই কপালে ভাঁজ পড়ছে সকলের। এই সুযোগে বাজারে চড়চড়িয়ে বাড়ছে ডাবের দাম। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, গরমে ডাবের জল খেলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি এড়ানো যায়। সত্যি কি তাই?
ডাবের জলের মধ্যে পটাসিয়াম, সোডিয়ামের মতো মিনারেল রয়েছে। এটি গরমকালে দেহে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করে। পুষ্টিবিদ অরিজিৎ দে বলেন, ‘গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে খনিজ বেরিয়ে যায়। সেই খনিজের ঘাটতি পূরণ করা যায় ডাবের জল খেয়ে।’ হাইড্রেশনের পাশাপাশি গরমকালে পেটের গণ্ডগোল থেকেও মুক্তি দেয় ডাবের জল।
গরমে শারীরিক অস্বস্তি এড়াতে ডাবের জল খেতেই পারেন। কিন্তু কোন সময়ে খাবেন, এটাও ভীষণ জরুরি। এই প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদ রাখী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চের মাঝে ডাবের জল খেলে ভালো উপকার মেলে। আবার ওয়ার্কআউটের পর ডাবের জল খেতে পারেন।’ ডাবের জলে ক্যালসিয়াম রয়েছে। তাই শরীরচর্চা করার পর এনার্জি ড্রিংক্সের বদলে ডাবের জল খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
কিন্তু বাজারে ডাবের আকাশছোঁয়া দাম। রোজ একটা করে কচি ডাবের জল খেলে পকেটে টান পড়তে বাধ্য। এই প্রসঙ্গে জেনারেল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল বলেন, ‘ডাবের জল খেলে ভালো, কিন্তু না খেলেও কোনও বিশেষ ক্ষতি হবে না। ডাবের জলের মধ্যে মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু শুধু ডাবের জল খেলেই যে সুস্থ থাকা যাবে, এমনটাও নয়।’ একই মত পোষণ করেছেন পুষ্টিবিদ অরিজিৎ। ডাবের জল না খেয়েও দেহে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি বজায় রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদ। এক গ্লাস জলে নুন-চিনি, লেবুর রস মিশিয়ে খেলেও উপকার পাবেন। তবে, যাঁরা রাস্তায় রোদে ঘুরে কাজ করেন, তাঁরা ডাবের জল খেতে পারেন।
কিন্তু ভুলেও প্যাকেটবন্দি ডাবের জল খাওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ডাক্তার ও ডায়েটিশিয়ানরা। তাঁদের বক্তব্য, প্যাকেটজাত ডাবের জলে বিভিন্ন ধরনের প্রিজ়ারভেটিভ থাকে। এই ধরনের পানীয় শরীরের কোনও উপকার করে না। এর চেয়ে তাজা ডাবের জল খাওয়া ভালো।
ডাবের জলে যেমন ইলেক্ট্রোলাইট থাকে, তেমন শর্করাও রয়েছে। যাঁদের ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির রোগ রয়েছে, তাঁরা বুঝতে পারেন না এই পানীয় খাবেন কি না। ডাঃ পাল বলেন, ‘ডাবের জল যে পরিমাণ সোডিয়াম-পটাশিয়াম বা শর্করা রয়েছে, যা খুব বেশি প্রভাব ফেলে না প্রেশার-সুগার রোগীদের উপর। তাই মাঝেমধ্যে ডাবের জল খাওয়ায় কোনও ক্ষতি নেই।’ কিন্তু অতিরিক্ত কোনও খাবারই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। পুষ্টিবিদ রাখী জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর বলেই যে বেশি খেতে হবে, এই ভুল করা চলবে না। দিনে একটা ডাবের জল খাওয়ায় ক্ষতি নেই। কিন্তু যদি কিডনির সমস্যা বা হার্টের সমস্যা থাকে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ডাবের জল খাওয়া ভালো।