১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৮ Time View

প্রকাশ ঘোষ বিধান (খুলনা) পাইকগাছা,

জৈষ্ঠ মাসের শুরুতে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছায় তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। সারা দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। পাশাপাশি বেড়েছে বাতাসে আর্দ্রতা। সব মিলিয়ে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।

পাইকগাছায় প্রচন্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে বিশেষ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। অনেকে তালের শাস,শরবত খেয়ে তৃষ্ণা নিবারন করছেন। দুপুর বারোটার পর থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত রাস্তা ও বাজার এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচন্ড গরম লাগছে। বোরো ধানের মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা তাপদাহে হাপিয়ে উঠছে। শ্রমজীবী ও স্থানীয়রা বলেন, গরমে কোনো কাজ করতে পারছেন না তারা। উপকূলের পাইকগাছা এলাকায় লবনাক্ত হাওয়ায় গরম বেশী অনুভূত হচ্ছে।

জ্যৈষ্ঠের শেষে আরো তেতে উঠছে সূর্য। কয়েক দিন ধরে দেশের বড় অংশজুড়ে প্রচণ্ড গরম পড়েছে। দিনে আগুনে রোদ ও গরমে খাঁ খাঁ করে চারদিক। রাতেও তাপমাত্রা কমে না। আর সেই সাথে লোডশের্ড়িং ও তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। গরমের কারণে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডায়রিয়ায়ও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

ঘরের ফ্যানের বাতাসও যেন গরম হয়ে উঠছে। তারপরও রয়েছে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বেলা বাড়ার সাথেই বাড়ছে তাপপ্রবাহ। দুপুরের দিকে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী ছুই ছুই অবস্থা। শহর এলাকায় গরমে নাভিশ্বাস বাড়ছে মানুষের।

পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপস গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের প্রখর তাপদাহ ও তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও কর্মজীবীদের জীবন যেন বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম। তারপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে ঘাম ঝরিয়ে ছুটতে হচ্ছে তাদের। পাইকগাছার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। পাইকগাছা পৌর শহরের ভ্যান চালক আবুল হোসেন বলেন, বেশি তাপের কারণে দুই-তিন ঘন্টার বেশি ভ্যান চালাতে পারছি না। রাস্তা থেকে গরম তাপ এসে যেন মুখে লাগছে। তাপ ও রৌদ্রের কারণে রাস্তায় বেশিক্ষণ থাকতে পারি না। গোপালপুর গ্রামের নুর ইসলাম বলেন, এই তীব্র গরমে মাঠে কাজ করতে ইচ্ছে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে শরীরে আগুনের তাপ লাগছে।

প্রচন্ড গরমের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে রোগীদের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, গরমে শিশুদের ডায়রিয়া, টাইফয়েড, শরীরে ঘাম বসে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর ও প্রস্রাবে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। বিনা কারণে শিশুকে ঘরের বাইরে বের না হতে বলা হচ্ছে অভিভাবকদের। সেই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি ও টাটকা খাবার খাওয়াতে হবে ও ফ্যানের নিচে বাতাসে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

Update Time : ০৩:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

প্রকাশ ঘোষ বিধান (খুলনা) পাইকগাছা,

জৈষ্ঠ মাসের শুরুতে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছায় তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। সারা দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। পাশাপাশি বেড়েছে বাতাসে আর্দ্রতা। সব মিলিয়ে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।

পাইকগাছায় প্রচন্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে বিশেষ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। অনেকে তালের শাস,শরবত খেয়ে তৃষ্ণা নিবারন করছেন। দুপুর বারোটার পর থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত রাস্তা ও বাজার এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচন্ড গরম লাগছে। বোরো ধানের মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা তাপদাহে হাপিয়ে উঠছে। শ্রমজীবী ও স্থানীয়রা বলেন, গরমে কোনো কাজ করতে পারছেন না তারা। উপকূলের পাইকগাছা এলাকায় লবনাক্ত হাওয়ায় গরম বেশী অনুভূত হচ্ছে।

জ্যৈষ্ঠের শেষে আরো তেতে উঠছে সূর্য। কয়েক দিন ধরে দেশের বড় অংশজুড়ে প্রচণ্ড গরম পড়েছে। দিনে আগুনে রোদ ও গরমে খাঁ খাঁ করে চারদিক। রাতেও তাপমাত্রা কমে না। আর সেই সাথে লোডশের্ড়িং ও তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। গরমের কারণে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডায়রিয়ায়ও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

ঘরের ফ্যানের বাতাসও যেন গরম হয়ে উঠছে। তারপরও রয়েছে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বেলা বাড়ার সাথেই বাড়ছে তাপপ্রবাহ। দুপুরের দিকে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী ছুই ছুই অবস্থা। শহর এলাকায় গরমে নাভিশ্বাস বাড়ছে মানুষের।

পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপস গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের প্রখর তাপদাহ ও তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও কর্মজীবীদের জীবন যেন বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম। তারপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে ঘাম ঝরিয়ে ছুটতে হচ্ছে তাদের। পাইকগাছার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। পাইকগাছা পৌর শহরের ভ্যান চালক আবুল হোসেন বলেন, বেশি তাপের কারণে দুই-তিন ঘন্টার বেশি ভ্যান চালাতে পারছি না। রাস্তা থেকে গরম তাপ এসে যেন মুখে লাগছে। তাপ ও রৌদ্রের কারণে রাস্তায় বেশিক্ষণ থাকতে পারি না। গোপালপুর গ্রামের নুর ইসলাম বলেন, এই তীব্র গরমে মাঠে কাজ করতে ইচ্ছে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে শরীরে আগুনের তাপ লাগছে।

প্রচন্ড গরমের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে রোগীদের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, গরমে শিশুদের ডায়রিয়া, টাইফয়েড, শরীরে ঘাম বসে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর ও প্রস্রাবে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। বিনা কারণে শিশুকে ঘরের বাইরে বের না হতে বলা হচ্ছে অভিভাবকদের। সেই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি ও টাটকা খাবার খাওয়াতে হবে ও ফ্যানের নিচে বাতাসে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।