নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক নির্বাসন ও রাজপথের কঠোর সংগ্রাম শেষে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে পদের গোপনীয়তা ও শপথ বাক্য পাঠ করান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সফল মেয়াদ শেষে আজ একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
বিকেল ঠিক চারটায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। খোলা আকাশের নিচে সংসদ ভবনের মনোরম পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে অংশ নেন। শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন, যা উপস্থিত জনতা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয়।
তারেক রহমানের এই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক কেবল একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক বিশেষ মাইলফলক। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আজ সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর দুপুরে সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। এর পরপরই রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সামনে এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের বিশাল চ্যালেঞ্জ। তাঁর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো। শপথ অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার সকালে নতুন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবস শুরু করবেন এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হবেন। সারাদেশ থেকে আসা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আজ রাজধানী ঢাকা এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সবাই একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
Reporter Name 


















