১২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুল তথ্য দিয়ে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের: ইরান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ৬৫ Time View

সবুজদিন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের ট্যাংকার পারাপারে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারা দেওয়ার মিথ্যা দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র উপহাস করেছে ইরান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে একটি তেলের ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেছে। তবে পোস্ট করার মাত্র ৩০ মিনিটের মাথায় কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেটি মুছে ফেলা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ ওয়াশিংটনকে উপহাস করে বলেন, এটি বৈশ্বিক তেলের বাজারকে প্রভাবিত করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। হোয়াইট হাউসও দ্রুত এই দাবিটি অস্বীকার করে একে ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ক্রিস রাইট দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সময় বিশ্ব জ্বালানি স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পরে স্পষ্ট করেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনী কোনো জাহাজ বা ট্যাংকারকে পাহারা দেওয়ার কাজ পরিচালনা করেনি।
এমনকি মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের প্রধান জেনারেল ড্যান কেইনও নিশ্চিত করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে তেলের ট্যাংকার সুরক্ষার জন্য কোনো সামরিক অভিযান এখনও শুরু হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মার্কিন কর্মকর্তাদের এই মুছে ফেলা পোস্টটিকে ‘পরিকল্পিত অপতথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে, মার্কিন কর্মকর্তারা বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য ভুয়া খবর ছড়াচ্ছেন, তবে এটি তাদের ওপর চেপে বসা মূল্যস্ফীতির সুনামি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
আরাকচি আরও সতর্ক করে বলেন যে, বিশ্ব তেলের বাজার এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে, যা অতীতে আরব তেল অবরোধ বা কুয়েত আক্রমণের প্রভাবকেও ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে এই উত্তেজনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনমতের চরম বিরোধিতাও সামনে এসেছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে, ৫৩ শতাংশ মার্কিন ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ঘোর বিরোধী।
রয়টার্স-ইপসোসের অন্য একটি জরিপ অনুযায়ী, এই বিরোধিতার হার ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশেরও বেশি তেল সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন পাহারার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন না থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুল তথ্য দিয়ে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের: ইরান

Update Time : ০২:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

সবুজদিন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের ট্যাংকার পারাপারে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারা দেওয়ার মিথ্যা দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র উপহাস করেছে ইরান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে একটি তেলের ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেছে। তবে পোস্ট করার মাত্র ৩০ মিনিটের মাথায় কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেটি মুছে ফেলা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ ওয়াশিংটনকে উপহাস করে বলেন, এটি বৈশ্বিক তেলের বাজারকে প্রভাবিত করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। হোয়াইট হাউসও দ্রুত এই দাবিটি অস্বীকার করে একে ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ক্রিস রাইট দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সময় বিশ্ব জ্বালানি স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পরে স্পষ্ট করেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনী কোনো জাহাজ বা ট্যাংকারকে পাহারা দেওয়ার কাজ পরিচালনা করেনি।
এমনকি মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের প্রধান জেনারেল ড্যান কেইনও নিশ্চিত করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে তেলের ট্যাংকার সুরক্ষার জন্য কোনো সামরিক অভিযান এখনও শুরু হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মার্কিন কর্মকর্তাদের এই মুছে ফেলা পোস্টটিকে ‘পরিকল্পিত অপতথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে, মার্কিন কর্মকর্তারা বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য ভুয়া খবর ছড়াচ্ছেন, তবে এটি তাদের ওপর চেপে বসা মূল্যস্ফীতির সুনামি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
আরাকচি আরও সতর্ক করে বলেন যে, বিশ্ব তেলের বাজার এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে, যা অতীতে আরব তেল অবরোধ বা কুয়েত আক্রমণের প্রভাবকেও ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে এই উত্তেজনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনমতের চরম বিরোধিতাও সামনে এসেছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে, ৫৩ শতাংশ মার্কিন ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ঘোর বিরোধী।
রয়টার্স-ইপসোসের অন্য একটি জরিপ অনুযায়ী, এই বিরোধিতার হার ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশেরও বেশি তেল সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন পাহারার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন না থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।