০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোংলা বন্দরে ৭ মাসে রেকর্ড ২১৬৫১ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ Time View

আলী আজীম, মোংলা

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর, মোংলা বন্দরে চলতি অর্থ বছরের (২০২৫-২৬ অর্থ বছর) সাত মাসে ৩১টি কন্টেইনার জাহাজসহ রেকর্ড ২১ হাজার ৬৫১টি টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। প্রতি বছরই এ বন্দরে রেকর্ড পরিমাণ জাহাজ আগমন করে। সমুদ্র বন্দরটিতে গত সাতমাসে রেকর্ড ৫১৫টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে। যারফলে এর রাজস্ব আয়বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থ বছরের তুলনায় ৭৯.১৯% বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে মোট ২১ হাজার ৪৫৬ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংহয়েছিলো যা বর্তমান অর্থ বছরে ৭ মাসে হ্যান্ডলিং হয়েছে।

এই সময় কালে, মোট ৬ হাজার ৪০৪টি রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হয়েছে। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ৮২ লক্ষ ৬৬ হাজার মে.টনযা, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.০৩% বেশি।

বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নব-নির্বাচিত সরকার-কে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যা গরিষ্ঠতার মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করেছে। আমরা আশাবাদী নতুন সরকারের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব মোংলা বন্দরের মাধ্যমে জাহাজ আগমন বৃদ্ধির সাথে সাথে আমদানি-রপ্তানিবৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

২০২৫-২৬ অর্থ বছর এখনো ৫ মাস বাঁকি তবে আমরা ইতোমধ্যে গত বছরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং অতিক্রম করেছি। বন্দর ব্যবহার কারীর সুবিধার্থে হিরণ পয়েন্ট এলাকায় ঐচ-১, ঐচ-২, ঐচ-৩ নামক তিনটি নতুন অপারেশনাল এ্যাঙ্কর বার্থ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষা মূলক ভাবে উক্ত বার্থ সমূহে ৯.০০ মিটার ড্রাফটের ১৬ (ষোল) টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলতার সাথে অপারেশনাল কাযক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন থেকে উক্ত বার্থ সমূহে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.০০ মিটার ড্রাফটের বাণিজ্যিক জাহাজ কার্গো অপারেশন করা সম্ভব হবে।

মাকরুজ্জামান আরো জানান, বর্তমানে মোংলা বন্দর দিয়ে খাদ্যশস্য, সিমেন্টের কাঁচামাল, ক্লিংকার, সার, অটো মোবাইল, যন্ত্রপাতি, চাল, গম, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা, তৈল বীজএবং এলপিজির মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি এবং মোংলা বন্দর সাদা মাছ, চিংড়ি, পাট ও পাট জাতপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টাইলস, রেশম কাপড় এবংসাধারণ পণ্যসম্ভার সহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এসব প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি সহজতর করে জাতীয় চাহিদা পূরণে বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মোংলা বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিকউন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি এবং এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে বলেও জানান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলা বন্দরে ৭ মাসে রেকর্ড ২১৬৫১ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং

Update Time : ০৭:৩১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আলী আজীম, মোংলা

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর, মোংলা বন্দরে চলতি অর্থ বছরের (২০২৫-২৬ অর্থ বছর) সাত মাসে ৩১টি কন্টেইনার জাহাজসহ রেকর্ড ২১ হাজার ৬৫১টি টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। প্রতি বছরই এ বন্দরে রেকর্ড পরিমাণ জাহাজ আগমন করে। সমুদ্র বন্দরটিতে গত সাতমাসে রেকর্ড ৫১৫টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে। যারফলে এর রাজস্ব আয়বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থ বছরের তুলনায় ৭৯.১৯% বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে মোট ২১ হাজার ৪৫৬ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংহয়েছিলো যা বর্তমান অর্থ বছরে ৭ মাসে হ্যান্ডলিং হয়েছে।

এই সময় কালে, মোট ৬ হাজার ৪০৪টি রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হয়েছে। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ৮২ লক্ষ ৬৬ হাজার মে.টনযা, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.০৩% বেশি।

বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নব-নির্বাচিত সরকার-কে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যা গরিষ্ঠতার মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করেছে। আমরা আশাবাদী নতুন সরকারের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব মোংলা বন্দরের মাধ্যমে জাহাজ আগমন বৃদ্ধির সাথে সাথে আমদানি-রপ্তানিবৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

২০২৫-২৬ অর্থ বছর এখনো ৫ মাস বাঁকি তবে আমরা ইতোমধ্যে গত বছরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং অতিক্রম করেছি। বন্দর ব্যবহার কারীর সুবিধার্থে হিরণ পয়েন্ট এলাকায় ঐচ-১, ঐচ-২, ঐচ-৩ নামক তিনটি নতুন অপারেশনাল এ্যাঙ্কর বার্থ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষা মূলক ভাবে উক্ত বার্থ সমূহে ৯.০০ মিটার ড্রাফটের ১৬ (ষোল) টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলতার সাথে অপারেশনাল কাযক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন থেকে উক্ত বার্থ সমূহে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.০০ মিটার ড্রাফটের বাণিজ্যিক জাহাজ কার্গো অপারেশন করা সম্ভব হবে।

মাকরুজ্জামান আরো জানান, বর্তমানে মোংলা বন্দর দিয়ে খাদ্যশস্য, সিমেন্টের কাঁচামাল, ক্লিংকার, সার, অটো মোবাইল, যন্ত্রপাতি, চাল, গম, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা, তৈল বীজএবং এলপিজির মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি এবং মোংলা বন্দর সাদা মাছ, চিংড়ি, পাট ও পাট জাতপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টাইলস, রেশম কাপড় এবংসাধারণ পণ্যসম্ভার সহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এসব প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি সহজতর করে জাতীয় চাহিদা পূরণে বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মোংলা বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিকউন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি এবং এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে বলেও জানান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান।