০৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ, তদন্তে হোয়াইট হাউস

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানীর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করেছে মাক্রিন প্রশাসন।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, তবে ঘটনাগুলোর ধরন ও পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক। এ কারণে প্রশাসন আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির সিনিয়র মহাকাশ প্রকৌশলী ও উপকরণ প্রক্রিয়াকরণ বিভাগের পরিচালক মনিকা জাসিন্তো রেজা, যিনি ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইকিংয়ের সময় নিখোঁজ হন।
এছাড়া সরকারি ঠিকাদার স্টিভেন গার্সিয়া ২০২৫ সালের আগস্টে নিখোঁজ হন। লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সাবেক কর্মী অ্যান্থনি চাভেজ একই বছরের মে মাসে নিখোঁজ হন। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ফোর্স মেজর জেনারেল উইলিয়াম ‘নিল’ ম্যাককাসল্যান্ড ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হন।
এদিকে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যেও রহস্য তৈরি হয়েছে। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী ফ্র্যাংক মাইওয়াল্ড ২০২৪ সালে মারা যান, তবে তার মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি। একই প্রতিষ্ঠানের গবেষক মাইকেল ডেভিড হিকস ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন, যার কারণও অপ্রকাশিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা এমন সময়ে ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ ও পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নে বড় ধরনের প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তদন্তে ফেডারেল তদন্ত সংস্থা যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের মধ্যে একসঙ্গে এ ধরনের নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল ইঙ্গিত বহন করতে পারে, তাই বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারীরা এক মুহূর্তে ধ্বংস নামিয়ে আনতে পারে, কিন্তু সেই ধ্বংস থেকে একটি দেশকে পুনর্গঠন করতে মানুষের সারাজীবন লেগে যায়।

পোপ লিও চতুর্দশ যুদ্ধকে ন্যায্যতা দিতে ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কিছু নেতা নিজেদের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে ধর্ম ও ঈশ্বরের নামকে বিকৃত করছেন, যা মানবতার বিরুদ্ধে এক ধরনের অপব্যবহার।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এটি এমন এক উল্টো পৃথিবী, যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে ধ্বংসকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে—যা প্রত্যেক সচেতন মানুষের কাছেই নিন্দনীয় হওয়া উচিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ বয়কট করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়: স্পিকার

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ, তদন্তে হোয়াইট হাউস

Update Time : ০১:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানীর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করেছে মাক্রিন প্রশাসন।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, তবে ঘটনাগুলোর ধরন ও পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক। এ কারণে প্রশাসন আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির সিনিয়র মহাকাশ প্রকৌশলী ও উপকরণ প্রক্রিয়াকরণ বিভাগের পরিচালক মনিকা জাসিন্তো রেজা, যিনি ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইকিংয়ের সময় নিখোঁজ হন।
এছাড়া সরকারি ঠিকাদার স্টিভেন গার্সিয়া ২০২৫ সালের আগস্টে নিখোঁজ হন। লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সাবেক কর্মী অ্যান্থনি চাভেজ একই বছরের মে মাসে নিখোঁজ হন। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ফোর্স মেজর জেনারেল উইলিয়াম ‘নিল’ ম্যাককাসল্যান্ড ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হন।
এদিকে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যেও রহস্য তৈরি হয়েছে। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী ফ্র্যাংক মাইওয়াল্ড ২০২৪ সালে মারা যান, তবে তার মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি। একই প্রতিষ্ঠানের গবেষক মাইকেল ডেভিড হিকস ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন, যার কারণও অপ্রকাশিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা এমন সময়ে ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ ও পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নে বড় ধরনের প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তদন্তে ফেডারেল তদন্ত সংস্থা যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের মধ্যে একসঙ্গে এ ধরনের নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল ইঙ্গিত বহন করতে পারে, তাই বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারীরা এক মুহূর্তে ধ্বংস নামিয়ে আনতে পারে, কিন্তু সেই ধ্বংস থেকে একটি দেশকে পুনর্গঠন করতে মানুষের সারাজীবন লেগে যায়।

পোপ লিও চতুর্দশ যুদ্ধকে ন্যায্যতা দিতে ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কিছু নেতা নিজেদের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে ধর্ম ও ঈশ্বরের নামকে বিকৃত করছেন, যা মানবতার বিরুদ্ধে এক ধরনের অপব্যবহার।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এটি এমন এক উল্টো পৃথিবী, যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে ধ্বংসকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে—যা প্রত্যেক সচেতন মানুষের কাছেই নিন্দনীয় হওয়া উচিত।