আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার পর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন-এর অভিযোগ এনে আবারও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের বড় ধরনের হামলার পর প্রথমে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীর হয়ে আসে, পরে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে কোনও জাহাজ চলাচল করছে না।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রণালিতে সীমিতভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়।
আইআরজিসি দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন।
আইআরজিসি জানায়, দিনের শুরুতে ইরানের মালিকানাধীন ২টি তেলবাহী জাহাজ এবং চীনের ১টি জাহাজ নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করে। তবে এরপর আর কোনো জাহাজ চলাচল করেনি।
এদিন লেবাননে ইসরায়েলের বড় আকারের হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি রাত ১০টার দিকে প্রণালি অতিক্রম করার কথা ছিল এমন একটি জাহাজও মাঝপথ থেকে ফিরে যায়।
এর আগে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় ইরান।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলার মাধ্যমে শর্ত লঙ্ঘন চালিয়ে যায়, তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে।
তবে হোয়াইট হাউজ বলেছে, লেবাননের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ নয়।
গতকাল বুধবার লেবাননে বিমান হামলার মাধ্যমে অভূতপূর্ব তাণ্ডব চালায় ইসরায়েল। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়। রাজধানী বৈরুতের এমন অনেক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে হিজবুল্লাহর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এসব হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স।
Reporter Name 

























