০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ মিনারে জামায়াতের শ্রদ্ধা জানানো প্রসঙ্গে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৬ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পুণ্যলগ্নে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রথমবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি অতীতের সকল রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতিকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘদিনের ভেদাভেদ ও শত্রুতা আঁকড়ে ধরে না রেখে সম্মুখপানে এগিয়ে চলাই এখন সময়ের দাবি।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান অবস্থান এবং অতীতে তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বিশ্লেষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জামায়াত দেশে এবং বিদেশে তাদের অতীতের অবস্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। যদিও সেই ক্ষমার ভাষা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে, তবুও তাদের এই পরিবর্তিত অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, জাতি কি এখনো সেই পুরনো বিভাজনকে পুঁজি করে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে, যেভাবে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার দেশটিকে চরম মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছিল? বিভাজনের রাজনীতি দেশের অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলেই তিনি মনে করেন।
বক্তব্য চলাকালে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্যই ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করা। বর্তমান সরকার দেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে সকল রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের মানুষ জাতীয় দিবসগুলো একসাথে পালন করতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের বর্তমান সংকটগুলো মোকাবিলা করতে হলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সকল শক্তিকে দেশের স্বার্থে এক হতে হবে। নতুন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বিভাজনের কোনো স্থান নেই বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য যে, এ বছরই প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর এমন উদার ও ঐক্যকামী অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে একটি শান্তিময় ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের প্রত্যাশা করছে। শহীদ মিনারের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সকলের অংশগ্রহণে দিবসটি পালিত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

শহীদ মিনারে জামায়াতের শ্রদ্ধা জানানো প্রসঙ্গে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

Update Time : ০২:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পুণ্যলগ্নে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রথমবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি অতীতের সকল রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতিকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘদিনের ভেদাভেদ ও শত্রুতা আঁকড়ে ধরে না রেখে সম্মুখপানে এগিয়ে চলাই এখন সময়ের দাবি।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান অবস্থান এবং অতীতে তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বিশ্লেষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জামায়াত দেশে এবং বিদেশে তাদের অতীতের অবস্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। যদিও সেই ক্ষমার ভাষা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে, তবুও তাদের এই পরিবর্তিত অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, জাতি কি এখনো সেই পুরনো বিভাজনকে পুঁজি করে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে, যেভাবে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার দেশটিকে চরম মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছিল? বিভাজনের রাজনীতি দেশের অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলেই তিনি মনে করেন।
বক্তব্য চলাকালে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্যই ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করা। বর্তমান সরকার দেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে সকল রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের মানুষ জাতীয় দিবসগুলো একসাথে পালন করতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের বর্তমান সংকটগুলো মোকাবিলা করতে হলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সকল শক্তিকে দেশের স্বার্থে এক হতে হবে। নতুন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বিভাজনের কোনো স্থান নেই বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য যে, এ বছরই প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর এমন উদার ও ঐক্যকামী অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে একটি শান্তিময় ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের প্রত্যাশা করছে। শহীদ মিনারের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সকলের অংশগ্রহণে দিবসটি পালিত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।