০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাকিল মাহমুদ (৩১) নামের যুবদলের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তাহেরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ যুবদলকর্মী শাকিল উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রামেশ্বপুর গ্রামের পাটোয়ারি বাড়ির আলমগীরের ছেলে। তিনি একই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী। আহতরা হলেন, মো. আলাউদ্দিন (৫০), মহর আলী (৫৯) তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০), ছেলে মাহফুজুর রহমান (২২) মেয়ে নাসরিন আক্তার (১৮) আলমগীর হোসেন (২৬) ও জহির (৫০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছয়ানীয় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি কর্মী মাসুদের ছেলে ইমন (১৯) আরেক বিএনপিকর্মী মাহফুজকে মারধর করে। এরই জেরে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ইমন ছয়ানী বাজারে নবগঠিত কৃষকদলের আনন্দ মিছিলে মাহফুজ নীরবকে পেয়ে মারধর করে। মিছিল শেষে বিকেলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলাউদ্দিন দলীয় লোকজন নিয়ে তাহেরপুর এলাকায় যান। একপর্যায়ে সেখানে দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, মাহফুজ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে তার বাবা মহর আলী জামায়াত করেন। মাহফুজদের বাড়ির অধিকাংশ লোক জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে মহর আলীসহ তার লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়। সে সময় স্থানীয় রাকিব নামের এক যুবক আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়।

এ বিষয়ে রাকিব বলেন, আমি পেশায় একজন পিকআপ ভ্যানচালক। আমি কাউকে গুলি করিনি। অভিযোগটি মিথ্যা। রাকিব আরো বলেন, বিএনপি নেতা আলাউদ্দিনের গুলি মিস ফায়ার হলে শাকিল গুলিবিদ্ধ হন। তখন রাজু মেম্বারকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়।

ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ হয়নি। জামায়াতের লোকজন আমাদের মিছিলের ওপর হামলা করেছে। এখানে আমাদের দলীয় কোন্দলের কোনো বিষয় নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন অভিযোগ নাকচ করে বলেন, এটা বিএনপি-বিএনপি করেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাদের দলের কোনো লোক এই হামলার সঙ্গে জড়িত নেই।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আমি কোন দল করব, এর ওপর হস্তক্ষেপের অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি

নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১

Update Time : ০৩:৩৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাকিল মাহমুদ (৩১) নামের যুবদলের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তাহেরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ যুবদলকর্মী শাকিল উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রামেশ্বপুর গ্রামের পাটোয়ারি বাড়ির আলমগীরের ছেলে। তিনি একই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী। আহতরা হলেন, মো. আলাউদ্দিন (৫০), মহর আলী (৫৯) তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০), ছেলে মাহফুজুর রহমান (২২) মেয়ে নাসরিন আক্তার (১৮) আলমগীর হোসেন (২৬) ও জহির (৫০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছয়ানীয় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি কর্মী মাসুদের ছেলে ইমন (১৯) আরেক বিএনপিকর্মী মাহফুজকে মারধর করে। এরই জেরে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ইমন ছয়ানী বাজারে নবগঠিত কৃষকদলের আনন্দ মিছিলে মাহফুজ নীরবকে পেয়ে মারধর করে। মিছিল শেষে বিকেলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলাউদ্দিন দলীয় লোকজন নিয়ে তাহেরপুর এলাকায় যান। একপর্যায়ে সেখানে দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, মাহফুজ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে তার বাবা মহর আলী জামায়াত করেন। মাহফুজদের বাড়ির অধিকাংশ লোক জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে মহর আলীসহ তার লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়। সে সময় স্থানীয় রাকিব নামের এক যুবক আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়।

এ বিষয়ে রাকিব বলেন, আমি পেশায় একজন পিকআপ ভ্যানচালক। আমি কাউকে গুলি করিনি। অভিযোগটি মিথ্যা। রাকিব আরো বলেন, বিএনপি নেতা আলাউদ্দিনের গুলি মিস ফায়ার হলে শাকিল গুলিবিদ্ধ হন। তখন রাজু মেম্বারকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়।

ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ হয়নি। জামায়াতের লোকজন আমাদের মিছিলের ওপর হামলা করেছে। এখানে আমাদের দলীয় কোন্দলের কোনো বিষয় নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন অভিযোগ নাকচ করে বলেন, এটা বিএনপি-বিএনপি করেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাদের দলের কোনো লোক এই হামলার সঙ্গে জড়িত নেই।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।