১০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনূসের ‘ভিভিআইপি’ মর্যাদা ৬ মাস নয়, ১ বছর থাকবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ‘ভেরি ভেরি ইমপরট্যান্ট পারসন’ বা ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমানো হয়েছে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেটি সত্য নয়। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১ বছর এই মর্যাদা পাবেন।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে দায়িত্ব হস্তান্তরের কয়েকদিন আগে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসকে এক বছরের জন্য ভিভিআইপি হিসেবে এসএসএফ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সে অনুযায়ী, তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) কঠোর নিরাপত্তা এবং প্রটোকল সুবিধা পাবেন।

তবে গতকাল (২৭ এপ্রিল) দেশের একাধিক অনলাইন নিউজপোর্টাল খবর প্রকাশ করে যে, মুহাম্মদ ইউনূসের ‘ভেরি ভেরি ইমপরট্যান্ট পারসন’ বা ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমানোর খবর সত্য নয়। এটি অপপ্রচার।

২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ইউনূস নিজেই নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়। তবে গেজেটটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি, যেখানে সাধারণত সব সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

সূত্র জানিয়েছে, তখনকার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, সরকার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই করা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে এসএসএফের নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন। একজন ভিভিআইপি হিসেবে তার বাসভবন ও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন এসএসএফ সদস্যরা। তার উপস্থিতিতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা তল্লাশি থাকে এবং দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছাড়েন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউনূসের ‘ভিভিআইপি’ মর্যাদা ৬ মাস নয়, ১ বছর থাকবে

ইউনূসের ‘ভিভিআইপি’ মর্যাদা ৬ মাস নয়, ১ বছর থাকবে

Update Time : ০৭:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ‘ভেরি ভেরি ইমপরট্যান্ট পারসন’ বা ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমানো হয়েছে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেটি সত্য নয়। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১ বছর এই মর্যাদা পাবেন।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে দায়িত্ব হস্তান্তরের কয়েকদিন আগে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসকে এক বছরের জন্য ভিভিআইপি হিসেবে এসএসএফ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সে অনুযায়ী, তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) কঠোর নিরাপত্তা এবং প্রটোকল সুবিধা পাবেন।

তবে গতকাল (২৭ এপ্রিল) দেশের একাধিক অনলাইন নিউজপোর্টাল খবর প্রকাশ করে যে, মুহাম্মদ ইউনূসের ‘ভেরি ভেরি ইমপরট্যান্ট পারসন’ বা ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমানোর খবর সত্য নয়। এটি অপপ্রচার।

২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ইউনূস নিজেই নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়। তবে গেজেটটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি, যেখানে সাধারণত সব সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

সূত্র জানিয়েছে, তখনকার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, সরকার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই করা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে এসএসএফের নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন। একজন ভিভিআইপি হিসেবে তার বাসভবন ও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন এসএসএফ সদস্যরা। তার উপস্থিতিতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা তল্লাশি থাকে এবং দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছাড়েন।