০৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাছে পাকা আম চিনবেন যেভাবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৪ Time View

সবুজদিন ডেস্ক।।

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন ফল হিসাবে আম অতি জনপ্রিয় একটি ফল। আমকে ফলের রাজা বলা হয় কারণ এতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু রসালো এই ফল কিনতে গিয়ে অনেকেই পড়েন দুশ্চিন্তায়—আমটি কি সত্যিই গাছে পেকেছে, নাকি কৃত্রিম রাসায়নিক দিয়ে পাকানো? কারণ অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করা আম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সচেতন ভোক্তা হিসেবে কিছু সহজ উপায় জানা জরুরি, যেগুলো দেখে সহজেই বোঝা যাবে আমটি প্রাকৃতিকভাবে পাকা নাকি রাসায়নিক দিয়ে পাকানো।

গাছে পাকা আম চিনবেন যেভাবে

গন্ধ পরীক্ষা

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে থাকে মিষ্টি ও মনোরম সুবাস। বিশেষ করে আমের বোটা বা ডাঁটির কাছে নাক নিলে ঘ্রাণ স্পষ্ট বোঝা যায়। রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে সাধারণত সেই স্বাভাবিক ঘ্রাণ থাকে না, বরং অনেক সময় তীব্র বা অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায়।

আমের রং

অনেকেই ভাবেন পুরোপুরি হলুদ মানেই পাকা আম। আসলে গাছে পাকা আমে সবুজ, হলুদ ও হালকা কমলা রঙের মিশ্রণ থাকতে পারে। অন্যদিকে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আমে রঙ হয় অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল ও একদম সমান।

খোসায় দাগ বা কালচে ছোপ

প্রাকৃতিক আমে ছোটখাটো কালো দাগ বা ছোপ থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক। তবে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে অনেক সময় খোসা অতিরিক্ত মসৃণ ও চকচকে দেখায়।

পানির পরীক্ষা

একটি পাত্রে পানি নিয়ে আমগুলো ডুবিয়ে দিন। সাধারণত প্রাকৃতিক আম পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু কার্বাইড বা অন্য কোনো রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম পানির ওপর ভেসে ওঠে। এ ছাড়া হালকা চাপ দিলে যদি আম কিছুটা নরম লাগে, তাহলে সেটি সাধারণত পাকা। তবে অতিরিক্ত নরম হলে সেটি পচা হতে পারে। রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম অনেক সময় বাইরে নরম হলেও ভেতরে শক্ত থাকে।

ভেতরের রঙ পরীক্ষা

আম কাটার পর যদি দেখা যায় ভেতরে কিছু অংশ কাঁচা বা শক্ত, তাহলে বুঝতে হবে সেটি জোর করে পাকানো হয়েছে। গাছে পাকা আম সাধারণত ভেতর থেকে সমানভাবে পাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফল খেলে পেটের সমস্যা, মাথাব্যথা, বমি কিংবা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদে ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দের নির্দেশ

গাছে পাকা আম চিনবেন যেভাবে

Update Time : ০৫:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

সবুজদিন ডেস্ক।।

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন ফল হিসাবে আম অতি জনপ্রিয় একটি ফল। আমকে ফলের রাজা বলা হয় কারণ এতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু রসালো এই ফল কিনতে গিয়ে অনেকেই পড়েন দুশ্চিন্তায়—আমটি কি সত্যিই গাছে পেকেছে, নাকি কৃত্রিম রাসায়নিক দিয়ে পাকানো? কারণ অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করা আম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সচেতন ভোক্তা হিসেবে কিছু সহজ উপায় জানা জরুরি, যেগুলো দেখে সহজেই বোঝা যাবে আমটি প্রাকৃতিকভাবে পাকা নাকি রাসায়নিক দিয়ে পাকানো।

গাছে পাকা আম চিনবেন যেভাবে

গন্ধ পরীক্ষা

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে থাকে মিষ্টি ও মনোরম সুবাস। বিশেষ করে আমের বোটা বা ডাঁটির কাছে নাক নিলে ঘ্রাণ স্পষ্ট বোঝা যায়। রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে সাধারণত সেই স্বাভাবিক ঘ্রাণ থাকে না, বরং অনেক সময় তীব্র বা অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায়।

আমের রং

অনেকেই ভাবেন পুরোপুরি হলুদ মানেই পাকা আম। আসলে গাছে পাকা আমে সবুজ, হলুদ ও হালকা কমলা রঙের মিশ্রণ থাকতে পারে। অন্যদিকে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আমে রঙ হয় অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল ও একদম সমান।

খোসায় দাগ বা কালচে ছোপ

প্রাকৃতিক আমে ছোটখাটো কালো দাগ বা ছোপ থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক। তবে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে অনেক সময় খোসা অতিরিক্ত মসৃণ ও চকচকে দেখায়।

পানির পরীক্ষা

একটি পাত্রে পানি নিয়ে আমগুলো ডুবিয়ে দিন। সাধারণত প্রাকৃতিক আম পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু কার্বাইড বা অন্য কোনো রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম পানির ওপর ভেসে ওঠে। এ ছাড়া হালকা চাপ দিলে যদি আম কিছুটা নরম লাগে, তাহলে সেটি সাধারণত পাকা। তবে অতিরিক্ত নরম হলে সেটি পচা হতে পারে। রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম অনেক সময় বাইরে নরম হলেও ভেতরে শক্ত থাকে।

ভেতরের রঙ পরীক্ষা

আম কাটার পর যদি দেখা যায় ভেতরে কিছু অংশ কাঁচা বা শক্ত, তাহলে বুঝতে হবে সেটি জোর করে পাকানো হয়েছে। গাছে পাকা আম সাধারণত ভেতর থেকে সমানভাবে পাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফল খেলে পেটের সমস্যা, মাথাব্যথা, বমি কিংবা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।