১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় পাটের আবাদে সোনালী স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ৫ Time View

প্রকাশ ঘোষ বিধান (খুলনা) পাইকগাছা

খুলনার পাইকগাছায় অনুকূল আবহাওয়া এবং সরকারি সহায়তা পেয়ে চাষীরা পাট চাষে সোনালী স্বপ্ন বুনছেন। বাজারে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পাটের বাম্পার আশ উৎপাদনে আশাবাদী পাটচাষীরা। কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হবে বলে কৃষি বিভাগ বিভাগ আশা করছে।

পাইকগাছায় বীজ বপন মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়া পাটের বাম্পার আঁশ উৎপাদনে সহায়তা করছে। পাটের আবাদ ভাল হওয়ায় আশা নিয়ে চাষীরা সোনালী স্বপ্ন বুনছে। বিগত বছর পাটের দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। গত বছর পাটের দাম ভাল পাওয়ায় এ বছর পাইকগাছা উপজেলায় পাটের আবাদও বেড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৮৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা গত বছর ছিল ২৫২ হেক্টর। লবনাক্ত পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী, পৌরসভার জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উপজেলার হিতামপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। কৃষক সামাদ মোড়ল জানান, পাট আবাদ করার পরে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কারণ দিন দিন ডোবা ও জলাশয়গুলি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট জাগ দেওয়া জায়গা পাওয়া যায় না। একই স্থানে একাধিকবার পাট জাগ দিতে হয়। এতে সময়মত পাট জাগ দিতে না পারায় পাটের আশ ভাল পাওয়া যায় না। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হতে হয়।

উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার কৃষক বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়েছেন। এছাড়া কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষের ওপর প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা পাট ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে। আগাম লাগানো ক্ষেতের পাট প্রায় ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত বড় হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে পাটের আশ ভালো হবে বলে আশা করছেন পাট চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, পাট বীজ বপনের সময় বৃষ্টি হওয়ায় পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। পাট চাষিদের কৃষি অফিস থেকে তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাটকাঠি ও পাটের আশ থেকে কৃষকরা আশানারুপ মূল্য পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৬ জন কারাগারে

পাইকগাছায় পাটের আবাদে সোনালী স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা

Update Time : ০৩:২৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

প্রকাশ ঘোষ বিধান (খুলনা) পাইকগাছা

খুলনার পাইকগাছায় অনুকূল আবহাওয়া এবং সরকারি সহায়তা পেয়ে চাষীরা পাট চাষে সোনালী স্বপ্ন বুনছেন। বাজারে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পাটের বাম্পার আশ উৎপাদনে আশাবাদী পাটচাষীরা। কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হবে বলে কৃষি বিভাগ বিভাগ আশা করছে।

পাইকগাছায় বীজ বপন মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়া পাটের বাম্পার আঁশ উৎপাদনে সহায়তা করছে। পাটের আবাদ ভাল হওয়ায় আশা নিয়ে চাষীরা সোনালী স্বপ্ন বুনছে। বিগত বছর পাটের দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। গত বছর পাটের দাম ভাল পাওয়ায় এ বছর পাইকগাছা উপজেলায় পাটের আবাদও বেড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৮৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা গত বছর ছিল ২৫২ হেক্টর। লবনাক্ত পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী, পৌরসভার জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উপজেলার হিতামপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। কৃষক সামাদ মোড়ল জানান, পাট আবাদ করার পরে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কারণ দিন দিন ডোবা ও জলাশয়গুলি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট জাগ দেওয়া জায়গা পাওয়া যায় না। একই স্থানে একাধিকবার পাট জাগ দিতে হয়। এতে সময়মত পাট জাগ দিতে না পারায় পাটের আশ ভাল পাওয়া যায় না। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হতে হয়।

উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার কৃষক বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়েছেন। এছাড়া কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষের ওপর প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা পাট ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে। আগাম লাগানো ক্ষেতের পাট প্রায় ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত বড় হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে পাটের আশ ভালো হবে বলে আশা করছেন পাট চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, পাট বীজ বপনের সময় বৃষ্টি হওয়ায় পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। পাট চাষিদের কৃষি অফিস থেকে তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাটকাঠি ও পাটের আশ থেকে কৃষকরা আশানারুপ মূল্য পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।