০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এই রমজানেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৮ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে নবগঠিত নির্বাচিত সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি এই পবিত্র রমজান মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের যে অঙ্গীকার করেছিল, তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আজকের সভায় এই কার্ডের কার্যকারিতা এবং বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সরকার চাচ্ছে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই এই প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এই কার্যক্রমটি একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই ফ্যামিলি কার্ড হবে একটি ‘সার্বজনীন’ ব্যবস্থা। অর্থাৎ, এর আওতায় আসার ক্ষেত্রে তাত্ত্বিকভাবে কোনো বাধ্যবাধকতা বা সীমাবদ্ধতা থাকবে না। তবে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল বিতরণের লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কমিটি একটি পর্যায়ক্রমিক রূপরেখা তৈরি করেছে। এই পদ্ধতিতে সবার আগে দেশের অত্যন্ত দরিদ্র বা ‘হতদরিদ্র’ জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে দরিদ্র এবং পরবর্তীতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর সহায়তা প্রদান করা।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই প্রকল্পের অগ্রগতি সরাসরি তদারকি করছেন। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে থাকা মানুষের জন্য এটি একটি বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে। মূলত কার্যক্রমটি কীভাবে স্বচ্ছতার সাথে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি ছাড়া মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানো যায়, সেটিই এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনি ইশতেহারের এই প্রতিফলন নতুন সরকারের জনকল্যাণমুখী রাজনীতির এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাইলট প্রজেক্টের ফলাফল ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সারাদেশে এটি স্থায়ীভাবে পরিচালনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সচিবালয়ে আজ দিনভর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিব্রতকর রেকর্ডে অভিষেক শর্মা, জয়ের ধারায় ভারতের নতুন বিশ্ব রেকর্ড

এই রমজানেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

Update Time : ০৩:৩৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে নবগঠিত নির্বাচিত সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি এই পবিত্র রমজান মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের যে অঙ্গীকার করেছিল, তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আজকের সভায় এই কার্ডের কার্যকারিতা এবং বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সরকার চাচ্ছে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই এই প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এই কার্যক্রমটি একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই ফ্যামিলি কার্ড হবে একটি ‘সার্বজনীন’ ব্যবস্থা। অর্থাৎ, এর আওতায় আসার ক্ষেত্রে তাত্ত্বিকভাবে কোনো বাধ্যবাধকতা বা সীমাবদ্ধতা থাকবে না। তবে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল বিতরণের লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কমিটি একটি পর্যায়ক্রমিক রূপরেখা তৈরি করেছে। এই পদ্ধতিতে সবার আগে দেশের অত্যন্ত দরিদ্র বা ‘হতদরিদ্র’ জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে দরিদ্র এবং পরবর্তীতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর সহায়তা প্রদান করা।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই প্রকল্পের অগ্রগতি সরাসরি তদারকি করছেন। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে থাকা মানুষের জন্য এটি একটি বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে। মূলত কার্যক্রমটি কীভাবে স্বচ্ছতার সাথে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি ছাড়া মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানো যায়, সেটিই এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনি ইশতেহারের এই প্রতিফলন নতুন সরকারের জনকল্যাণমুখী রাজনীতির এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাইলট প্রজেক্টের ফলাফল ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সারাদেশে এটি স্থায়ীভাবে পরিচালনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সচিবালয়ে আজ দিনভর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।