১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের ভাসমান হাসপাতাল জাহাজের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১৪ Time View

অনলাইন ডেস্ক
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে একটি ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ পাঠানো হচ্ছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সহায়তায় একটি বড় হাসপাতাল জাহাজ সেখানে পাঠানো হবে। নিজের বার্তার সঙ্গে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর হাসপাতাল জাহাজ ইউএসএস মার্সির একটি চিত্রও যুক্ত করেন।
ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডে অনেক অসুস্থ মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তাঁদের সেবা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণায় কূটনৈতিক মহলে বিস্ময় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কারণ গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে উন্নত ও জাতীয়করণকৃত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
ঘোষণার পর ড্যানিশ সরকার, গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ল্যান্ড্রি প্রেসিডেন্টের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড দখল বা কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। গত জানুয়ারিতে তিনি ন্যাটোর প্রধানের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ইউএসএস মার্সি, ইউএসএস কমফোর্ট নামে দুটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল জাহাজ রয়েছে। এগুলো সাধারণত মানবিক বিপর্যয় বা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস নামে একটি সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মানবিক সহায়তা, নাকি কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের অংশ, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের ভাসমান হাসপাতাল জাহাজের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী?

Update Time : ০১:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে একটি ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ পাঠানো হচ্ছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সহায়তায় একটি বড় হাসপাতাল জাহাজ সেখানে পাঠানো হবে। নিজের বার্তার সঙ্গে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর হাসপাতাল জাহাজ ইউএসএস মার্সির একটি চিত্রও যুক্ত করেন।
ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডে অনেক অসুস্থ মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তাঁদের সেবা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণায় কূটনৈতিক মহলে বিস্ময় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কারণ গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে উন্নত ও জাতীয়করণকৃত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
ঘোষণার পর ড্যানিশ সরকার, গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ল্যান্ড্রি প্রেসিডেন্টের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড দখল বা কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। গত জানুয়ারিতে তিনি ন্যাটোর প্রধানের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ইউএসএস মার্সি, ইউএসএস কমফোর্ট নামে দুটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল জাহাজ রয়েছে। এগুলো সাধারণত মানবিক বিপর্যয় বা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস নামে একটি সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মানবিক সহায়তা, নাকি কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের অংশ, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।