০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রীষ্মকালে যেসব রোগের কবলে পড়তে পারেন ও বাঁচার উপায়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক

গ্রীষ্মের এই তীব্র দাবদাহে শরীর সুস্থ রাখা সত্যিই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। প্যাচপ্যাচে ঘাম, ক্লান্তি, র্যাশ সব নিয়ে যেন নাজেহাল অবস্থা হয়ে যায়। অত্যধিক গরমে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। তাপপ্রবাহের সময় সামান্য অসতর্কতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
গরমের সময়ে কিছু সাধারণ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সময়ে মূলত যেসব রোগ বেশি দেখা দেয় এবং তা থেকে বাঁচার উপায়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

হিট স্ট্রোক

গ্রীষ্মকালে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। হিট স্ট্রোকের কবলে পড়লে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক সময়ে ব্যক্তি অজ্ঞানও হয়ে যায়। এমনকি হিট স্ট্রোক থেকে মৃত্যুও হতে পারে। এই সমস্যা এড়াতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখুন। আর হিট স্ট্রোক হলে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন চোখে-মুখে।

ফুড পয়জন

গ্রীষ্মকালে ফুড পয়জনের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। মূলত দূষিত খাবার ও পানির জন্যই এটা ঘটে থাকে। আসলে উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় জীবাণু বেড়ে ওঠে দ্রুত। আর রাস্তার খাবার, পানি পান করলে খাদ্যে বিষক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। ফুড পয়জন হলে ডায়ারিয়া বা পেট খারাপ, বমি, পেট ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এই সময়ে খাওয়াদাওয়া হালকা করুন এবং বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
ডিহাইড্রেশন

গ্রীষ্মকালের প্রধান সমস্যা হলো ডিহাইড্রেশন। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও খনিজ বেরিয়ে যায়। এর অভাবে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা, পেশিতে খিঁচুনির মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা এড়াতে পানির পাশাপাশি নুন-চিনি মিশ্রিত পানি, লেবু পানি ইত্যাদি খাওয়া উচিত। তরল জাতীয় খাবার এবং যেসব ফলের মধ্যে পানির পরিমাণ বেশি, সেগুলো খান।

টাইফয়েড

গ্রীষ্মকালে দূষিত পানি খেলেই এই সমস্যা দেখা দেয়। টাইফয়েড হলে জ্বর, ক্লান্তি, দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং খিদে কমে যাওয়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই সময়ে পানি ফুটিয়ে খাওয়া উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

মাম্পস ও হাম

গ্রীষ্মকালে বাচ্চাদের মধ্যে হাম ও মাম্পসের সমস্যাও দেখা দেয়। এগুলো ভাইরাসজনিত রোগ। এই সব রোগে আক্রান্ত হলে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। হাম হলে অনেক সময়ে ত্বকেও র্যাশ বের হয়। এছাড়া সাধারণ সর্দির সমস্যা থাকেই।

গ্রীষ্মের সাধারণ রোগের প্রকোপ এড়াবেন কীভাবে?

গরমে ঢিলেঢালা সুতির পোশাক, হালকা রঙের জামা পরুন।
রাস্তায় বের হলে সঙ্গে টুপি, ছাতা ও পানির বোতল রাখতেই হবে।
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। রাস্তায় বের হলে ডাবের পানিও খেতে পারেন।
রাস্তার খাবার, খোলা জায়গায় বিক্রি হওয়া পানীয় এড়িয়ে চলুন।
খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধোয়া দরকার।
তরমুজ, শসা, আখ, জামরুলের মতো তাজা ফল এবং লাউ, ঝিঙের মতো গ্রীষ্মকালীন সবজি খাবার হিসেবে রাখুন।
চা, কফি, চিনিযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহল এবং রেড মিট এড়িয়ে চলুন।
হালকা এবং সহজপাচ্য খাবার খান।
শারীরিক অস্বস্তি এড়াতে দিনে দুবার গোসল করতে পারেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তের ১৩টি ঘাট মাদক চোরাচালানের জন্য এখন উন্মুক্ত রুট

গ্রীষ্মকালে যেসব রোগের কবলে পড়তে পারেন ও বাঁচার উপায়

Update Time : ০৬:২২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক

গ্রীষ্মের এই তীব্র দাবদাহে শরীর সুস্থ রাখা সত্যিই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। প্যাচপ্যাচে ঘাম, ক্লান্তি, র্যাশ সব নিয়ে যেন নাজেহাল অবস্থা হয়ে যায়। অত্যধিক গরমে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। তাপপ্রবাহের সময় সামান্য অসতর্কতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
গরমের সময়ে কিছু সাধারণ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সময়ে মূলত যেসব রোগ বেশি দেখা দেয় এবং তা থেকে বাঁচার উপায়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

হিট স্ট্রোক

গ্রীষ্মকালে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। হিট স্ট্রোকের কবলে পড়লে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক সময়ে ব্যক্তি অজ্ঞানও হয়ে যায়। এমনকি হিট স্ট্রোক থেকে মৃত্যুও হতে পারে। এই সমস্যা এড়াতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখুন। আর হিট স্ট্রোক হলে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন চোখে-মুখে।

ফুড পয়জন

গ্রীষ্মকালে ফুড পয়জনের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। মূলত দূষিত খাবার ও পানির জন্যই এটা ঘটে থাকে। আসলে উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় জীবাণু বেড়ে ওঠে দ্রুত। আর রাস্তার খাবার, পানি পান করলে খাদ্যে বিষক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। ফুড পয়জন হলে ডায়ারিয়া বা পেট খারাপ, বমি, পেট ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এই সময়ে খাওয়াদাওয়া হালকা করুন এবং বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
ডিহাইড্রেশন

গ্রীষ্মকালের প্রধান সমস্যা হলো ডিহাইড্রেশন। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও খনিজ বেরিয়ে যায়। এর অভাবে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা, পেশিতে খিঁচুনির মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা এড়াতে পানির পাশাপাশি নুন-চিনি মিশ্রিত পানি, লেবু পানি ইত্যাদি খাওয়া উচিত। তরল জাতীয় খাবার এবং যেসব ফলের মধ্যে পানির পরিমাণ বেশি, সেগুলো খান।

টাইফয়েড

গ্রীষ্মকালে দূষিত পানি খেলেই এই সমস্যা দেখা দেয়। টাইফয়েড হলে জ্বর, ক্লান্তি, দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং খিদে কমে যাওয়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই সময়ে পানি ফুটিয়ে খাওয়া উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

মাম্পস ও হাম

গ্রীষ্মকালে বাচ্চাদের মধ্যে হাম ও মাম্পসের সমস্যাও দেখা দেয়। এগুলো ভাইরাসজনিত রোগ। এই সব রোগে আক্রান্ত হলে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। হাম হলে অনেক সময়ে ত্বকেও র্যাশ বের হয়। এছাড়া সাধারণ সর্দির সমস্যা থাকেই।

গ্রীষ্মের সাধারণ রোগের প্রকোপ এড়াবেন কীভাবে?

গরমে ঢিলেঢালা সুতির পোশাক, হালকা রঙের জামা পরুন।
রাস্তায় বের হলে সঙ্গে টুপি, ছাতা ও পানির বোতল রাখতেই হবে।
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। রাস্তায় বের হলে ডাবের পানিও খেতে পারেন।
রাস্তার খাবার, খোলা জায়গায় বিক্রি হওয়া পানীয় এড়িয়ে চলুন।
খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধোয়া দরকার।
তরমুজ, শসা, আখ, জামরুলের মতো তাজা ফল এবং লাউ, ঝিঙের মতো গ্রীষ্মকালীন সবজি খাবার হিসেবে রাখুন।
চা, কফি, চিনিযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহল এবং রেড মিট এড়িয়ে চলুন।
হালকা এবং সহজপাচ্য খাবার খান।
শারীরিক অস্বস্তি এড়াতে দিনে দুবার গোসল করতে পারেন।