০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মানবতাবিরোধী অপরাধ

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৪ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

রোববার (২ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন মামলার ২৭তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। জেরা শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৪ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। এ সময় প্রসিকিউটর মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সার সাক্ষ্য দেন। তাঁর জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে।

প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ গত ২৭ এপ্রিল শেষ হলেও পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আশরাফ কায়সারের অতিরিক্ত জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় তদন্ত কর্মকর্তাকেও পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, উসকানি ও প্ররোচনামূলক বক্তব্য দেন। পাশাপাশি সহিংসতা, সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারযোগ্য।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তারা সবাই পলাতক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মানবতাবিরোধী অপরাধ

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

Update Time : ১১:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৪ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

রোববার (২ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন মামলার ২৭তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। জেরা শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৪ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। এ সময় প্রসিকিউটর মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সার সাক্ষ্য দেন। তাঁর জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে।

প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ গত ২৭ এপ্রিল শেষ হলেও পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আশরাফ কায়সারের অতিরিক্ত জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় তদন্ত কর্মকর্তাকেও পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, উসকানি ও প্ররোচনামূলক বক্তব্য দেন। পাশাপাশি সহিংসতা, সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারযোগ্য।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তারা সবাই পলাতক।