০২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে দিনে চাঁদাবাজি হয় দুই-আড়াই কোটি টাকা: শ্রম উপদেষ্টা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২২৫ Time View

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিটি জায়গায় চাঁদাবাজি হয় এবং সেখানে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা অবৈধভাবে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বছরের অর্জন ও সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট আবেদনের ওপর হাইকোর্টের রায় নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় যারা এটা নিয়ে আলোচনা করছেন, তারা নতুন বেঞ্চে যাবেন অথবা প্রধান বিচারপতির শরণাপন্ন হবেন।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি রায়ের বিরুদ্ধে যাচ্ছি না, রায়ের কথাও বলছি না। দুনিয়াতে যাদের যাদের ট্রিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে, এ পর্যন্ত বন্দরে সবচেয়ে বেশি ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে।
পানগাঁও বন্দরে সরকার প্রতিবছর ২২ কোটি টাকা লস দিচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এখন আপনি লাভ পাবেন।
তিনি বলেন, আমি আশ্চর্য হই যখন আপনারা এগুলো পেপারে দেন কিন্তু একবারও জিজ্ঞেস করেন নাই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন কত অবৈধ টাকা ওঠে? আমি একটা রাফ ফিগার দিতে পারি কিন্তু দিলে হয়ত ওটা নিয়ে কনটেস্ট হবে। মিনিমাম কত টাকা ওঠে? প্রত্যেকটি জায়গায় চাঁদাবাজি। ভেতরে ট্রাক দাঁড়ানো, দিনের পর দিন দাঁড়ানো, যেটা জায়গা না, কেউ না কেউ চাঁদা নিচ্ছে। ওখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বাইরে গেছে সেখানেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।
অতীতে যিনি চট্টগ্রামের মেয়র হন তিনি মেয়র কম বন্দরের রক্ষক বেশি– এমন মন্তব্য করে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরটা সোনার ডিম পাড়া মুরগির মতো। তাড়াতাড়ি এটা জবাই করো, সবগুলো বের করে খেয়ে ফেলো।
‘প্রথমে বলল যে অমুক চলে গেলে বন্দর অনেক ডাউন হয়ে যাবে। আমি নিজে ভয় পেয়ে গেলাম। এখন কী করব। মিটিং করলাম, বললাম যে ঠিক আছে ৫ শতাংশ কম হোক সেটাও রাজি। এখন তো ফাস্ট, বন্দরে যেখানে দিনের পর দিন লাগত সেখানে একদিন, দেড় দিন এবং তারও কম সময় লাগছে।’
তিনি বলেন, আপনি বিজনেসম্যানদের জিজ্ঞেস করেন না কেন? আমার সঙ্গে যত বিজনেসম্যানের দেখা হয় ১০০% বলছে স্যার যদি একটা ভালো কাজ করেন, তাহলে এই কাজটা করলেন। এটা তো আগের পরিকল্পনা, হঠাৎ করে আসেনি। অনেক কাজ হয়েছে তবে হয়নি কেন, সেটা আপনারাই ভালো জানেন।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন আনুমানিক কত টাকা অবৈধভাবে আসে– জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আনুমানিক দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা। প্রত্যেকটা দিন। বন্দরে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, তারা বেশি বলবে।
দুই-আড়াই কোটি টাকা আদায় বন্ধ করতে পেরেছেন– এমন প্রশ্নের জবাবে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অনেক কমেছে।
অনেকটা মানে পুরোটা বন্ধ করতে পেরেছেন কি না– জানতে চাইলে পাল্টা প্রশ্ন তুলে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে পুরোটা কমানো সম্ভব?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে দিনে চাঁদাবাজি হয় দুই-আড়াই কোটি টাকা: শ্রম উপদেষ্টা

Update Time : ০৭:৪৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিটি জায়গায় চাঁদাবাজি হয় এবং সেখানে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা অবৈধভাবে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বছরের অর্জন ও সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট আবেদনের ওপর হাইকোর্টের রায় নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় যারা এটা নিয়ে আলোচনা করছেন, তারা নতুন বেঞ্চে যাবেন অথবা প্রধান বিচারপতির শরণাপন্ন হবেন।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি রায়ের বিরুদ্ধে যাচ্ছি না, রায়ের কথাও বলছি না। দুনিয়াতে যাদের যাদের ট্রিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে, এ পর্যন্ত বন্দরে সবচেয়ে বেশি ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে।
পানগাঁও বন্দরে সরকার প্রতিবছর ২২ কোটি টাকা লস দিচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এখন আপনি লাভ পাবেন।
তিনি বলেন, আমি আশ্চর্য হই যখন আপনারা এগুলো পেপারে দেন কিন্তু একবারও জিজ্ঞেস করেন নাই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন কত অবৈধ টাকা ওঠে? আমি একটা রাফ ফিগার দিতে পারি কিন্তু দিলে হয়ত ওটা নিয়ে কনটেস্ট হবে। মিনিমাম কত টাকা ওঠে? প্রত্যেকটি জায়গায় চাঁদাবাজি। ভেতরে ট্রাক দাঁড়ানো, দিনের পর দিন দাঁড়ানো, যেটা জায়গা না, কেউ না কেউ চাঁদা নিচ্ছে। ওখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বাইরে গেছে সেখানেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।
অতীতে যিনি চট্টগ্রামের মেয়র হন তিনি মেয়র কম বন্দরের রক্ষক বেশি– এমন মন্তব্য করে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরটা সোনার ডিম পাড়া মুরগির মতো। তাড়াতাড়ি এটা জবাই করো, সবগুলো বের করে খেয়ে ফেলো।
‘প্রথমে বলল যে অমুক চলে গেলে বন্দর অনেক ডাউন হয়ে যাবে। আমি নিজে ভয় পেয়ে গেলাম। এখন কী করব। মিটিং করলাম, বললাম যে ঠিক আছে ৫ শতাংশ কম হোক সেটাও রাজি। এখন তো ফাস্ট, বন্দরে যেখানে দিনের পর দিন লাগত সেখানে একদিন, দেড় দিন এবং তারও কম সময় লাগছে।’
তিনি বলেন, আপনি বিজনেসম্যানদের জিজ্ঞেস করেন না কেন? আমার সঙ্গে যত বিজনেসম্যানের দেখা হয় ১০০% বলছে স্যার যদি একটা ভালো কাজ করেন, তাহলে এই কাজটা করলেন। এটা তো আগের পরিকল্পনা, হঠাৎ করে আসেনি। অনেক কাজ হয়েছে তবে হয়নি কেন, সেটা আপনারাই ভালো জানেন।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন আনুমানিক কত টাকা অবৈধভাবে আসে– জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আনুমানিক দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা। প্রত্যেকটা দিন। বন্দরে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, তারা বেশি বলবে।
দুই-আড়াই কোটি টাকা আদায় বন্ধ করতে পেরেছেন– এমন প্রশ্নের জবাবে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অনেক কমেছে।
অনেকটা মানে পুরোটা বন্ধ করতে পেরেছেন কি না– জানতে চাইলে পাল্টা প্রশ্ন তুলে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে পুরোটা কমানো সম্ভব?