১০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে একই পরিবারের দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে এক নারীর মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯৪ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।
চট্টগ্রামের হালিশহরে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ এক পরিবারের ৯ জনের মধ্যে রানী আক্তার (৪০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এর ৩৬ নম্বর বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য বের করা হয়। রানী আক্তার কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা।

নিহতের আত্মীয় মো. মকবুল জানান, সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে পথেই রানী আক্তারের মৃত্যু হয়। তার মরদেহ কুমিল্লার বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। বাকি আটজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে সোমবার ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন—শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), মো. আইমান (৯), আয়েশা আক্তার (৪), পাখি আক্তার (৩৫)। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রানী আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশই দগ্ধ হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়েছিল। সেখানে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হালিশহরে বাসায় বিস্ফোরণে দগ্ধ নয় জনের অবস্থাই শঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বজনরা বিকালে তাদের ঢাকায় নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন বলে শুনেছি।’

হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দগ্ধ নয় জনেরই শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে রানী, পাখি এবং শাখাওয়াতের শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া একজনের ৮০, আরেকজনের ৪৫ এবং বাকিদের শরীর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।’

উল্লেখ্য, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর ওই ঘরে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে একই পরিবারের দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে এক নারীর মৃত্যু

Update Time : ০১:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।
চট্টগ্রামের হালিশহরে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ এক পরিবারের ৯ জনের মধ্যে রানী আক্তার (৪০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এর ৩৬ নম্বর বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য বের করা হয়। রানী আক্তার কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা।

নিহতের আত্মীয় মো. মকবুল জানান, সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে পথেই রানী আক্তারের মৃত্যু হয়। তার মরদেহ কুমিল্লার বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। বাকি আটজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে সোমবার ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন—শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), মো. আইমান (৯), আয়েশা আক্তার (৪), পাখি আক্তার (৩৫)। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রানী আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশই দগ্ধ হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়েছিল। সেখানে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হালিশহরে বাসায় বিস্ফোরণে দগ্ধ নয় জনের অবস্থাই শঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বজনরা বিকালে তাদের ঢাকায় নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন বলে শুনেছি।’

হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দগ্ধ নয় জনেরই শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে রানী, পাখি এবং শাখাওয়াতের শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া একজনের ৮০, আরেকজনের ৪৫ এবং বাকিদের শরীর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।’

উল্লেখ্য, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর ওই ঘরে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন।