০৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিল সুইডেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক||
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজ দেশের নাগরিকদের অতিদ্রুত ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে সুইডেন। ইরান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে ‘অত্যন্ত অনিশ্চিত’ উল্লেখ করে এই জরুরি সতর্কতা জারি করেছে স্টকহোম। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনগার্ড এক বিবৃতিতে ইরানে অবস্থানরত সুইডিশ নাগরিকদের অনতিবিলম্বে দেশটি ছাড়ার এই কড়া আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে ইরান সফর এড়িয়ে যাওয়ার জন্যও সকল নাগরিককে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে আকাশপথ ও স্থল সীমান্তগুলো উন্মুক্ত থাকায় এখনও ইরান ত্যাগ করা সম্ভব। তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সুযোগ থাকা অবস্থাতেই সকল সুইডিশ নাগরিককে কোনো প্রকার বিলম্ব না করে দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। যারা এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানে অবস্থান করবেন, তাঁদের ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিজেদেরই নিতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বা যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে সরকার কোনো বিশেষ উদ্ধার অভিযান বা সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করতে পারবে না।
সুইডেনের এই কঠোর অবস্থান মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মনোভাবের সূত্র ধরে এসেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে জেনেভায় চলমান সংলাপের মাঝেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানকে একটি ‘ন্যায্য চুক্তিতে’ বাধ্য করতে সীমিত আকারের সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে তাঁর প্রশাসন। তেহরান যদি দ্রুত নমনীয় না হয় তবে ‘অপ্রীতিকর কিছু’ ঘটতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করে একটি সামরিক অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন পেলে ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টাও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই মূলত ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সুইডেনের এই ত্বরিত পদক্ষেপে ধারণা করা হচ্ছে যে, ওই অঞ্চলে বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাত এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। আপাতত সুইডিশ নাগরিকদের নিরাপদ প্রস্থানই স্টকহোমের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিল সুইডেন

Update Time : ০৩:৪৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক||
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজ দেশের নাগরিকদের অতিদ্রুত ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে সুইডেন। ইরান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে ‘অত্যন্ত অনিশ্চিত’ উল্লেখ করে এই জরুরি সতর্কতা জারি করেছে স্টকহোম। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনগার্ড এক বিবৃতিতে ইরানে অবস্থানরত সুইডিশ নাগরিকদের অনতিবিলম্বে দেশটি ছাড়ার এই কড়া আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে ইরান সফর এড়িয়ে যাওয়ার জন্যও সকল নাগরিককে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে আকাশপথ ও স্থল সীমান্তগুলো উন্মুক্ত থাকায় এখনও ইরান ত্যাগ করা সম্ভব। তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সুযোগ থাকা অবস্থাতেই সকল সুইডিশ নাগরিককে কোনো প্রকার বিলম্ব না করে দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। যারা এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানে অবস্থান করবেন, তাঁদের ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিজেদেরই নিতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বা যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে সরকার কোনো বিশেষ উদ্ধার অভিযান বা সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করতে পারবে না।
সুইডেনের এই কঠোর অবস্থান মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মনোভাবের সূত্র ধরে এসেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে জেনেভায় চলমান সংলাপের মাঝেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানকে একটি ‘ন্যায্য চুক্তিতে’ বাধ্য করতে সীমিত আকারের সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে তাঁর প্রশাসন। তেহরান যদি দ্রুত নমনীয় না হয় তবে ‘অপ্রীতিকর কিছু’ ঘটতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করে একটি সামরিক অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন পেলে ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টাও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই মূলত ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সুইডেনের এই ত্বরিত পদক্ষেপে ধারণা করা হচ্ছে যে, ওই অঞ্চলে বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাত এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। আপাতত সুইডিশ নাগরিকদের নিরাপদ প্রস্থানই স্টকহোমের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।