সবুজদিন রিপোর্টঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
শনিবার গাজীপুরে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন, যেখানে জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন। মহাপরিচালক তার বক্তব্যে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে সকল সদস্যকে অটল পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ় অবস্থানে থেকে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, ব্যালট বক্স ছিনতাই, জাল ভোট কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপসহ আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে, যাতে দ্রুত টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।”
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর আধুনিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে মহাপরিচালক জানান যে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন সদস্যের মধ্যে দুইজন সদস্য সরাসরি অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দাখিল করবেন এবং সদর দপ্তর পর্যন্ত একটি শক্তিশালী অবজারভার টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখবে। এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ফলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন প্রভাবিত করার সুযোগ থাকবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সদস্য নির্বাচনের মানদণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিবেচনায় শারীরিকভাবে সুস্থ, প্রশিক্ষিত ও স্মার্ট সদস্যদেরই এবারের নির্বাচনী দায়িত্বে বাছাই করা হয়েছে।” তিনি আরও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, “দেশ ও বাহিনীর পতাকাকে সমুন্নত রেখে রাষ্ট্রের অর্পিত এই পবিত্র দায়িত্ব এবং জনগণের আমানত সঠিকভাবে রক্ষা করাই সকল সদস্যের প্রধান কর্তব্য।”
মহাপরিচালক তার বক্তব্যে আনসার-ভিডিপিকে একটি বৃহৎ ও সম্ভাবনাময় স্বেচ্ছাসেবী শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন যা জাতীয় প্রয়োজনে সদা প্রস্তুত থাকে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, পেশাদারিত্ব ও সততার দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যরা আগামীতেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনআস্থা সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং বাহিনীর সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই প্রস্তুতিমূলক সমাবেশটি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সংহত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আনসার-ভিডিপির অপরিহার্য ভূমিকাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। মূলত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সদস্যদের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
Reporter Name 















