০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ার সন্দেহে রসমলাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ Time View

সবুজদিন ডেস্ক

পরকীয়ার সন্দেহে রসমলাইয়ে চেতনানাশ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় লুকাতে হাত ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে কাপড়ে মুড়িয়ে ফেলা হয় ভাড়া বাসার পেছনে পরিত্যক্ত জমিতে। আর বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাত অন্য জায়গায় ফেলে দিয়ে আত্মগোপনে যান স্বামী। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এসব কথা স্বীকার করেছেন ঘাতক স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেক।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে ঘাতক স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেককে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কক্সবাজারে এনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিনভর ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ।
এর আগে, গত ১১ এপ্রিল বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মস্তক ও দুই হাতের কব্জিবিহীন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তারেক মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ইউনিয়নের দাসি মাঝি পাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। আর খুনের শিকার শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নি (২৯) একই উপজেলার চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমান উল্লাহর মেয়ে
ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত রসমলাইয়ের বক্সটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মুন্নিকে হত্যার ঘটনায় তার মা হাছিনা আকতার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঘাতক স্বামী তারেককে আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি পেলে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব পাল।
জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল বিকেলে সদরের ঝিলংজার জানারঘোনার একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মস্তক ও দুই হাতের কব্জিবিহীন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজের তথ্য ও স্বজনদের শনাক্তকরণের ভিত্তিতে মরদেহটি শাহিদা আক্তার রিপার বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীর আত্মগোপনে থাকাকে সন্দেহজনক ধরে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য মতে, গ্রেপ্তার তারেক স্ত্রীর পরকীয়া ও অবহেলায় অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৬ মার্চ রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রী রিপাকে অচেতন করার পর ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহের মাথা ও দুই হাতের কব্জি আলাদা করে ফেলেন। হত্যার একদিন পর মস্তক ও হাতবিহীন দেহাংশ ঝিলংজার জানার ঘোনার একটি ডোবায় ফেলে দেন। আর বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাতের কব্জি কক্সবাজার সদর থানার পাশে খুরুশকুল-কস্তোরাঘাট নতুন ব্রিজের উপর দিয়ে বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাঁকখালী নদীতে নিখোঁজ দেহাংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখনো জ্বালানির দাম বাড়াইনি: প্রধানমন্ত্রী

পরকীয়ার সন্দেহে রসমলাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

Update Time : ০৬:০৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন ডেস্ক

পরকীয়ার সন্দেহে রসমলাইয়ে চেতনানাশ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় লুকাতে হাত ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে কাপড়ে মুড়িয়ে ফেলা হয় ভাড়া বাসার পেছনে পরিত্যক্ত জমিতে। আর বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাত অন্য জায়গায় ফেলে দিয়ে আত্মগোপনে যান স্বামী। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এসব কথা স্বীকার করেছেন ঘাতক স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেক।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে ঘাতক স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেককে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কক্সবাজারে এনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিনভর ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ।
এর আগে, গত ১১ এপ্রিল বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মস্তক ও দুই হাতের কব্জিবিহীন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তারেক মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ইউনিয়নের দাসি মাঝি পাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। আর খুনের শিকার শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নি (২৯) একই উপজেলার চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমান উল্লাহর মেয়ে
ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত রসমলাইয়ের বক্সটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মুন্নিকে হত্যার ঘটনায় তার মা হাছিনা আকতার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঘাতক স্বামী তারেককে আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি পেলে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব পাল।
জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল বিকেলে সদরের ঝিলংজার জানারঘোনার একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মস্তক ও দুই হাতের কব্জিবিহীন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজের তথ্য ও স্বজনদের শনাক্তকরণের ভিত্তিতে মরদেহটি শাহিদা আক্তার রিপার বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীর আত্মগোপনে থাকাকে সন্দেহজনক ধরে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য মতে, গ্রেপ্তার তারেক স্ত্রীর পরকীয়া ও অবহেলায় অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৬ মার্চ রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রী রিপাকে অচেতন করার পর ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহের মাথা ও দুই হাতের কব্জি আলাদা করে ফেলেন। হত্যার একদিন পর মস্তক ও হাতবিহীন দেহাংশ ঝিলংজার জানার ঘোনার একটি ডোবায় ফেলে দেন। আর বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাতের কব্জি কক্সবাজার সদর থানার পাশে খুরুশকুল-কস্তোরাঘাট নতুন ব্রিজের উপর দিয়ে বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাঁকখালী নদীতে নিখোঁজ দেহাংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।