০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্থকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন জামায়াত আমির

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের জের ধরে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এরপর বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা হট্টগোল শুরু করেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বিরোধী দলীয় নেতারা বলেছেন জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার কথা। এরপরই সংসদে হট্টগোল শুরু হয়।

এরপর বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি পড়েছি মসিবতে, মাননীয় স্পিকার। সবাই আমাকে ভালোবাসে তো, তাই আমাকে নিয়ে সবাই কৌতুক করে।’

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের পার্থ সাহেব খুব ভালো ডিবেট করতেন। তিনি প্রচুর ম্যাটেরিয়ালস নিয়ে এসেছেন। তিনি কিছু সঠিক বক্তব্য দিয়েছেন, আবার কিছু বেঠিক বক্তব্য দিয়েছেন।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘তিনি (পার্থ) বলেছেন, জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন কিংবা হাবিজাবি করতে বলেছি। আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি—কোথায়, কখন এবং কিভাবে তিনি এটি পরিষ্কার করবেন। আমি এ ধরনের রেকলেস কথা বলি না। এমনকি শেখ হাসিনার নামেও আমি বলি না। যে দোষ করবে, সে-ই তার দায় নেবে। অন্য কেউ বললে সেটি আমার নামে চালানো যাবে না। আমি তাকে অনুরোধ করছি, বক্তব্যে মাধুর্য ছড়াতে গিয়ে ভবিষ্যতে যেন আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য না করেন।’

এ বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘এই যে আমার হাতে ডকুমেন্টস আছে, ‘জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার কথা এনসিপির এক নেতা বলেছেন।’

এরপর আবার হট্টগোল শুরু হলে পার্থ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘এত উত্তেজিত হবেন না।’

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘সম্মানিত সংসদ সদস্যরা, দয়া করে আপনাদের আসন গ্রহণ করুন। দয়া করে স্পিকারকে কথা বলতে দিন।’

তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখছেন। আপনি এটি পছন্দ করতেও পারেন, আবার নাও করতে পারেন। কিন্তু আপনার কোনো অধিকার নেই এভাবে কথা বলার। বিরতির আগে স্পিকার বলেছেন, প্রত্যেকের স্বাধীনতা আছে। স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে আপনাদের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু একজন আরেকজনকে এভাবে আক্রমণ করার অধিকার নেই।’

এরপর পার্থ বলেন, ‘আমরা তো এখানে এ বছরের জন্য আসিনি, অনেক সময়ের জন্য এসেছি। আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করি। তিনি ১১ দলীয় নেতা, তাই হয়তো তার নাম ধরেই শুরু করেছি। এই ক্লিপগুলোতে আরও অন্যান্য কথা রয়েছে, এজন্য আমি ব্যাখ্যা করিনি। কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে আমাকে অভিযুক্ত করা ভুল বোঝাবুঝি। এটি সাধারণ বিষয়।’

জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি শুধু বলেছি, এই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে কোনো ডকুমেন্টস বা রেফারেন্স দিলে তা অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে। তাহলে কোনো সমস্যা হয় না। তখন কারো চ্যালেঞ্জ থাকলে করতে পারে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পার্থকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন জামায়াত আমির

Update Time : ০২:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের জের ধরে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এরপর বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা হট্টগোল শুরু করেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বিরোধী দলীয় নেতারা বলেছেন জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার কথা। এরপরই সংসদে হট্টগোল শুরু হয়।

এরপর বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি পড়েছি মসিবতে, মাননীয় স্পিকার। সবাই আমাকে ভালোবাসে তো, তাই আমাকে নিয়ে সবাই কৌতুক করে।’

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের পার্থ সাহেব খুব ভালো ডিবেট করতেন। তিনি প্রচুর ম্যাটেরিয়ালস নিয়ে এসেছেন। তিনি কিছু সঠিক বক্তব্য দিয়েছেন, আবার কিছু বেঠিক বক্তব্য দিয়েছেন।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘তিনি (পার্থ) বলেছেন, জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন কিংবা হাবিজাবি করতে বলেছি। আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি—কোথায়, কখন এবং কিভাবে তিনি এটি পরিষ্কার করবেন। আমি এ ধরনের রেকলেস কথা বলি না। এমনকি শেখ হাসিনার নামেও আমি বলি না। যে দোষ করবে, সে-ই তার দায় নেবে। অন্য কেউ বললে সেটি আমার নামে চালানো যাবে না। আমি তাকে অনুরোধ করছি, বক্তব্যে মাধুর্য ছড়াতে গিয়ে ভবিষ্যতে যেন আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য না করেন।’

এ বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘এই যে আমার হাতে ডকুমেন্টস আছে, ‘জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার কথা এনসিপির এক নেতা বলেছেন।’

এরপর আবার হট্টগোল শুরু হলে পার্থ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘এত উত্তেজিত হবেন না।’

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘সম্মানিত সংসদ সদস্যরা, দয়া করে আপনাদের আসন গ্রহণ করুন। দয়া করে স্পিকারকে কথা বলতে দিন।’

তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখছেন। আপনি এটি পছন্দ করতেও পারেন, আবার নাও করতে পারেন। কিন্তু আপনার কোনো অধিকার নেই এভাবে কথা বলার। বিরতির আগে স্পিকার বলেছেন, প্রত্যেকের স্বাধীনতা আছে। স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে আপনাদের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু একজন আরেকজনকে এভাবে আক্রমণ করার অধিকার নেই।’

এরপর পার্থ বলেন, ‘আমরা তো এখানে এ বছরের জন্য আসিনি, অনেক সময়ের জন্য এসেছি। আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করি। তিনি ১১ দলীয় নেতা, তাই হয়তো তার নাম ধরেই শুরু করেছি। এই ক্লিপগুলোতে আরও অন্যান্য কথা রয়েছে, এজন্য আমি ব্যাখ্যা করিনি। কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে আমাকে অভিযুক্ত করা ভুল বোঝাবুঝি। এটি সাধারণ বিষয়।’

জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি শুধু বলেছি, এই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে কোনো ডকুমেন্টস বা রেফারেন্স দিলে তা অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে। তাহলে কোনো সমস্যা হয় না। তখন কারো চ্যালেঞ্জ থাকলে করতে পারে।’