০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিম্নআয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই কার্ড চালুর চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই সারাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় কার্যদিবসের শুরুতেই অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও গতিশীল করা। প্রধানমন্ত্রী এই কার্ড বিতরণে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই এই সেবা পান তা নিশ্চিত করাই হবে প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এই প্রকল্পের সময়সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে, নতুন সরকারের উন্নয়ন ও কল্যাণমুখী রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে এই ফ্যামিলি কার্ডকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, কারিগরি প্রস্তুতি ও তালিকা তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং সব ঠিক থাকলে আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের মানুষ পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ডের সুবিধা ভোগ করতে শুরু করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ করে চাল, ডাল ও তেলের মতো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রমজানের শুরুতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য এই ফ্যামিলি কার্ড একটি বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা হিসেবে আসবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হওয়ায় এর বাস্তবায়নে প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের জটিলতা অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সচিবালয়ের এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের জনবান্ধব অর্থনৈতিক সংস্কারের একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হলো। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও, পরবর্তীতে এটি দেশজুড়ে একটি স্থায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিব্রতকর রেকর্ডে অভিষেক শর্মা, জয়ের ধারায় ভারতের নতুন বিশ্ব রেকর্ড

ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা

Update Time : ০৩:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিম্নআয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই কার্ড চালুর চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই সারাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় কার্যদিবসের শুরুতেই অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও গতিশীল করা। প্রধানমন্ত্রী এই কার্ড বিতরণে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই এই সেবা পান তা নিশ্চিত করাই হবে প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এই প্রকল্পের সময়সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে, নতুন সরকারের উন্নয়ন ও কল্যাণমুখী রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে এই ফ্যামিলি কার্ডকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, কারিগরি প্রস্তুতি ও তালিকা তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং সব ঠিক থাকলে আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের মানুষ পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ডের সুবিধা ভোগ করতে শুরু করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ করে চাল, ডাল ও তেলের মতো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রমজানের শুরুতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য এই ফ্যামিলি কার্ড একটি বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা হিসেবে আসবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হওয়ায় এর বাস্তবায়নে প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের জটিলতা অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সচিবালয়ের এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের জনবান্ধব অর্থনৈতিক সংস্কারের একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হলো। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও, পরবর্তীতে এটি দেশজুড়ে একটি স্থায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।