ক্রীড়া ডেস্ক
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের জয়জয়কার চললেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত এই তরুণ ক্রিকেটার আসরের শুরু থেকেই নিজের ছায়া হয়ে আছেন। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে শূন্য রানে আউট হয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন তিনি। অভিষেক শর্মার এই অফ-ফর্ম ভারতীয় সমর্থকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হলেও দলগতভাবে ভারত টানা জয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে সুপার এইটে পা রেখেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসরের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন অভিষেক। এরপর অসুস্থতার কারণে এক ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকার পর পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফিরলেও রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেন এই ওপেনার। ইতিপূর্বে ভারতীয় পেসার আশিষ নেহরা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে ফ্লেচার এবং উগান্ডার রজার মুকাসা এই তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন। এছাড়া এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ওপেনার হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ বার শূন্য রানে আউট হওয়ার লজ্জাজনক রেকর্ডেও তিনি সঙ্গী হয়েছেন বাংলাদেশের পারভেজ হোসেন ইমন ও নেপালের কুশল ভুর্তেলদের। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব, যিনি গত এক বছরে ৬ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন।
অভিষেকের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনেও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে ভারত। টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শিভাম দুবের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পায় টিম ইন্ডিয়া। দুবে মাত্র ৩১ বলে ৬৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও তিলক ভার্মা, যারা যথাক্রমে ৩৪ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেন। বল হাতেও ছিলেন শিভাম দুবে ও বরুণ চক্রবর্তী। বরুণ ৩টি এবং দুবে ২টি উইকেট শিকার করে ডাচদের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন। এই জয়ে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইটে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করল ভারত।
এই জয়ের মাধ্যমে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ১২টি ম্যাচ জিতে নতুন এক বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছে ভারত। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার টানা ৮টি করে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ছিল সর্বোচ্চ, যা এখন ভারতের দখলে। তবে রেকর্ড গড়লেও এবারের আসরে ফিল্ডিং ও বোলিংয়ে কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে ভারতের। চলতি বিশ্বকাপে ভারত এ পর্যন্ত ১২ জন ভিন্ন ভিন্ন বোলার ব্যবহার করেছে, যা এক আসরে কোনো দলের জন্য সর্বাধিক। পাশাপাশি ক্যাচ মিসের তালিকায়ও তারা বেশ ওপরের দিকেই রয়েছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৯টি ক্যাচ ছেড়েছে ভারতীয় ফিল্ডাররা, যা একমাত্র আয়ারল্যান্ডের চেয়ে কম। সুপার এইটের কঠিন লড়াইয়ে নামার আগে ক্যাচ মিসের এই প্রবণতা ও টপ অর্ডারের ব্যর্থতা কাটানোই এখন কোচ ও অধিনায়ক সূর্যকুমারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
Reporter Name 




















