০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সচিবালয়ে দ্বিতীয় দিনে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। সকাল ৯টার কিছু পরেই তিনি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী কার্যালয়ে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত কার্যালয় এবং তাঁর জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’-র জরুরি সংস্কার ও মেরামতের কাজ বর্তমানে চলমান থাকায় সাময়িকভাবে তিনি সচিবালয় থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই নিরবচ্ছিন্ন কর্মব্যস্ততা ও প্রশাসনিক তৎপরতা নজরে আসার মতো।
প্রধানমন্ত্রীর আজকের দিনটি কাটছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভার মধ্য দিয়ে। তাঁর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হলো সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কীভাবে আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে সম্পন্ন করা যায়, সেই বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রীদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এই কার্ড বিতরণের ভূমিকা নিয়ে তিনি বিশেষ দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।
দিনের দ্বিতীয় ভাগে দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী আরও একটি বড় ধরনের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করবেন। এই সভার মূল আলোচ্য বিষয় হলো আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং দেশের মৃতপ্রায় নদী ও খাল খননসহ জলাধার পুনরুদ্ধারের এক বিশাল পরিকল্পনা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের এই ‘সবুজ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের বিস্তারিত রূপরেখা এই বৈঠকেই চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। দখল হয়ে যাওয়া জলাধার উদ্ধার এবং নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে তাঁর প্রথম কার্যদিবসেও তিনি দীর্ঘ সময় দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। নতুন সরকারের যাত্রালগ্নে প্রধানমন্ত্রীর এই ত্বরিত ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক পদক্ষেপ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে যে, যমুনা এবং নিয়মিত কার্যালয় মেরামতের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও বেশ কয়েক দিন তিনি সচিবালয় থেকেই তাঁর সকল দাপ্তরিক কার্যাবলি পরিচালনা করবেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের প্রতিটি বিভাগকে সক্রিয় করতে প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি তদারকি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিব্রতকর রেকর্ডে অভিষেক শর্মা, জয়ের ধারায় ভারতের নতুন বিশ্ব রেকর্ড

সচিবালয়ে দ্বিতীয় দিনে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০৩:৪১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। সকাল ৯টার কিছু পরেই তিনি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী কার্যালয়ে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত কার্যালয় এবং তাঁর জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’-র জরুরি সংস্কার ও মেরামতের কাজ বর্তমানে চলমান থাকায় সাময়িকভাবে তিনি সচিবালয় থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই নিরবচ্ছিন্ন কর্মব্যস্ততা ও প্রশাসনিক তৎপরতা নজরে আসার মতো।
প্রধানমন্ত্রীর আজকের দিনটি কাটছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভার মধ্য দিয়ে। তাঁর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হলো সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কীভাবে আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে সম্পন্ন করা যায়, সেই বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রীদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এই কার্ড বিতরণের ভূমিকা নিয়ে তিনি বিশেষ দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।
দিনের দ্বিতীয় ভাগে দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী আরও একটি বড় ধরনের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করবেন। এই সভার মূল আলোচ্য বিষয় হলো আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং দেশের মৃতপ্রায় নদী ও খাল খননসহ জলাধার পুনরুদ্ধারের এক বিশাল পরিকল্পনা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের এই ‘সবুজ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের বিস্তারিত রূপরেখা এই বৈঠকেই চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। দখল হয়ে যাওয়া জলাধার উদ্ধার এবং নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে তাঁর প্রথম কার্যদিবসেও তিনি দীর্ঘ সময় দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। নতুন সরকারের যাত্রালগ্নে প্রধানমন্ত্রীর এই ত্বরিত ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক পদক্ষেপ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে যে, যমুনা এবং নিয়মিত কার্যালয় মেরামতের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও বেশ কয়েক দিন তিনি সচিবালয় থেকেই তাঁর সকল দাপ্তরিক কার্যাবলি পরিচালনা করবেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের প্রতিটি বিভাগকে সক্রিয় করতে প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি তদারকি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।